পাতা:আত্মচরিত (৪র্থ সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৪১৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৮৮৮ - ইংলেণ্ডের সাধারণ প্রজাবর্গের পানাসক্তি vo আসিল সে মাতাল, ভাল করিয়া যেন দাড়াইতে পারিতেছে না । যারা এক সঙ্গে এক কামরাতে আসিয়া বসিল, তারা পুরুষ মেয়ে নেশাতে চুর। নামিয়া ট্রামে বসিলাম, আরোহীদের মধ্যে কে কার গায়ে ঢলিয়া পড়ে। যার সঙ্গে কথা কহি, তার মুখেই মদের গন্ধ। দেখিতাম, আর মনে ভাবিতাম, এত বড় জাতিটার যদি এই পানদোষটা না থাকিত, তাহা হইলে আরও কত কাজ করিতে পারিত ! চারিদিকেই ইংরাজ জাতির পানাসক্তিব্য নিদর্শন প্ৰাপ্ত হইতাম । কোথাও পথের পাশ্বের্ণ দেখি, পর্বতাকার আমাদের দেশের ধান্যের স্তুপ বহিয়াছে। দাড়াইয়া কারণ জিজ্ঞাসা করিয়া জানিলাম, ঐ ধান্য রাশি কহঁতে মদ প্ৰস্তুত হইয়া পচা ধান্য পরিত্যক্ত হইয়াছে। দেখিয়া মনে ভাবিলাম, “ ওমা ! অন্নাভাবে আমাদের দেশের শত সহস্ৰ দরিদ্র লোক মরিতেছে, আর তাদের মুখের অন্ন আনিয়া এই ব্যবহারে লাগাইতেছে ?” যে বাড়ীতে আমি থাকি,তাম, সে বাড়ীর বাড়ীওয়ালা একজন বৃদ্ধ। তিনি তঁর পত্নী ও তিনটী অবিবাহিত মেয়ে, এই তাহদের পরিবার। আহারের সময় মেয়েদিগকে সুরাপান করিতে দেখি নাই। কিন্তু বৃদ্ধ পিতা প্ৰতিদিন বৈকালে আহারান্তে ঐ ভোজনস্থানেই বসিয়া প্ৰায় রাত্রি বারটা পৰ্যন্ত পড়িতেন। পড়া চলিয়াছে এবং ঘন ঘন সুরাপান চলিয়াছে। এই জন্য র্তার হাতের নিকট এক জগৰ ( ক্ষুদ্র কলস ) ধেনো মন্দ (ale) বাখা হইত। পড়া শেষ হইতে হইতে প্ৰায় কলসিটী খালি হইত। গুইতে ধাহবার সময় যদি কোনও দিন তঁর সঙ্গে কথা কহিতাম, দেখিতাম নুেগ্ৰন্তে বুদ্ধের গলার স্বর বদলিয়া গিয়াছে। অথচ এই পরিবারের মধ্যে ধৰ্ম্মভাব বিলক্ষণ ছিল। প্ৰতিদিন প্ৰাতে তাহারা সপরিবারে উপাসনা করিতেন এবং রবিবারে নিয়মিতরূপে উপাসনামন্দিরে যাইতেন। বিশেষভাবে বৃদ্ধ কৰ্ত্তার ধৰ্ম্মভাবদেখিতাম। তিনি RS