পাতা:আত্মচরিত (৪র্থ সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৪৪৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


»vvv রেভাবেণ্ড চালােস ভয়সী। VO) হইলে তিনি তাহার বাড়ীতে আহারের জন্য আমাকে নিমন্ত্ৰণ করিলেন। তখন ভয়সী-গৃহিণী ( Mrs. Voysey) ও তাঁহার পুত্ৰকন্যাগণের সঙ্গে আমার আলাপ হইল। তাহারা একেৰারে আমাকে নিজের লোকের মত করিয়া লইলো। তারপর একদিন ভয়সী সাহেবের অনুরোধে, তাহার উপাসনামন্দিরে উপদেশ দিলাম। সেই উপদেশে ব্ৰাহ্মসমাজ কি কি কাজে হাতে দিয়াছে ও কি করিতেছে, তাহার বর্ণনা করিয়াছিলাম । বাহ্মগণ এদেশে কিরূপ সামাজিক নিগ্ৰহ সহ্য করিতেছেন, তাহারও কিঞ্চিৎ বিবরণ দিয়াছিলাম। যতদূর স্মরণ হয়, সেই বিবরণ উপস্থিত ব্যক্তিদিগের অনেকের ভাল লাগিয়াছিল। একটা কথা বিশেষ ভাবে মনে আছে। উপাসনামণ্ডপ হইতে নামিয়া পার্থের ঘরে আসিয়া ভয়সী সাহেব ও ভয়াসীগৃহিণীর সহিত কথা কহিতেছি, তখন মিষ্টার ভয়সীর কনিষ্ঠা কন্যা, যাহার বয়স তখন ২৭৷২৮ বৎসর হইবে, আমাকে আর কথা কহিতে দেয় না ; আমাকে হাত দিয়া ঠেলিয়া বারবার বলিতে লাগিল, “মিষ্টার শাস্ত্ৰী, ব্ৰাহ্মসমাজ আমার সমাজ, ভারতবর্ষ আমার দেশ, আমি তোমার সঙ্গে যাব, আমাকে নেবে কি না বল না ?” আমি ২/১ বার বলিলাম, “রোস, কথা কহিতে দাও।” সে দেরি তার সয় না, আবার ঠেলিয়া বলে, “আমাকে সঙ্গে নেবে কি নািবলনা ?” তখন আমি ভয়সী-গৃহিণীর মুখের দিকে চাহিয়া হাসিয়া বলিলাম, “আপনার মেয়ে তা আমার সঙ্গে চলিল ।” তিনি হাসিয়া বলিলেন, “যাওয়ার অর্থ কি, তা ও এখনও বোঝে না। তা মন্দ কি ! ওকে নিয়ে যাও।” ভয়সী সাহেবের একটী মেয়ে সিন্ধুদেশের একটী ব্ৰাহ্মযুবককে বিবাহ করিয়া এ দেশে আসিয়াছে, সে সেই মেয়েটা কি না জানি না। • ইহার পরে আমি দেশে ফিরিলে, ভয়সী সাহেব তাহার মুদ্রিত উপদেশ সপ্তাহে সপ্তাহে আমার নিকট পাঠাইতেন, সৰ্ব্বদা চিঠি পত্র লিখিতেন, এবং মধ্যে মধ্যে আমার কাজের জন্য অর্থসাহায্য করিতেন। মৃত্যুর দিন পৰ্য্যন্ত এই আত্মীয়তা রক্ষা করিয়াছিলেন।