পাতা:আত্মচরিত (৪র্থ সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৫৪৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8. শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত [ পবি, অতএব ইহা আমি অকুষ্ঠিত ভাবে বলিতে পারি যে, আমি যে ঈশ্বরে ও পরকালে, এবং সত্যে ও নিজ কৰ্ত্তব্যে আস্থা রাখিতে শিখিয়াছি, তাহা অনেক পরিমাণে আমার জননীকে দেখিয়া । তিনি যে কেবল তাহার স্তন্যদুগ্ধের দ্বারা আমাকে পালন করিয়াছিলেন, তাহা নহে ; তাহার চরিত্রের দ্বারাও আমার চরিত্র গঠন করিয়াছিলেন । (৩) -জ্যেষ্ঠ মাতুল দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ। ১৮৫৬ সালে আমি যখন আমার পিতার সহিত কলিকাতাতে পড়িতে আসিলাম, ও চাপাতলায় আমার মাতামহের বাসাতে উঠিলাম, তখন মাতামহ মহাশয় সেখানে ছিলেন না। তিনি পীড়িত হইয়া দেশে ছিলেন । আমি সেই সময় হইতে বাসার অপরাপর লোকের ব্যবহার ও আমার জ্যেষ্ঠ মাতুল দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ মহাশয়ের ব্যবহারে কিছু পৃথক দেখিতাম। তিনি তামাকটি পৰ্য্যন্ত খাইতেন না ; সর্বদ গম্ভীর, বাসার আমোদ প্রমোদে যোগ দিতেন না ; এবং সৰ্ব্বদা পাঠে মগ্ন থাকিতেন। তিনি বোধ হয় তখন তাহার গ্রীস ও রোমের ইতিহাস লিখিতেছেন। গৃহে যেমন তাঁহাকে পাঠে নিযুক্ত" দেখিতাম, সংস্কৃত কলেজে পড়িতে গিয়াও দেখিতাম, তিনি লাইব্রেরী-গৃহের এক কোণে পাঠে নিমগ্ন আছেন। এমনি গভীর যে লোকে তাহার কাছে। যাইতে ভয় পায়। বাস্তবিক, তিনি এমনি গম্ভীর মানুষ ছিলেন যে আমার মার মুখে শুনিয়াছি, দাদা ঘরে আছেন দেখিলে ভগিনীরা পায়ের মল টানিয়া হাঁটুর কাছে তুলিয়া আস্তে আস্তে সিড়ীতে নামিতেন। বড় মামার এত কম কথা কহা অভ্যাস ছিল যে, আমাকে যে এত ভাল বাসিতেন। আমাকেও কখনও একটি আদায় বা ভালবাসার কথা বলেন নাই। তিনি বসিয়া আছেন বা বেড়াইতেছেন দেখিলে আমরা সে ধার দিী ধাঁইআমি না!