পাতা:আদায়ের ইতিহাস - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ইতিহাস St “থাক, দোকানের খাবার খেতে হবে না। তিষ্ট। আমার বাড়ীতে কিছু খাবে চল ।” “আপনার বাড়ীতে মণীশব্দ? খাবার-টাবার করার হাঙ্গামাহাঙ্গামা আর কিসের ? খাবার তৈরী হয়েই আছে, চাটা শুধু করতে হবে ।” f মণীশ উঠিয়া দাড়াইল ।—“এস।” মণীশের বাড়ী বেশী দূরে নয়, দু’চার বার ত্রিষ্টপ তার বাড়ীতে গিয়াছে। আগে কোনদিন মণীশ তাকে ভিতরে ডাকে নাই, আজ একেবারে দোতলায় তার নিজের ঘরে নিয়া গেল । 'दन डिहै। একটা রঙচটা কাঠের চেয়ারে বসিয়া ত্রিষ্টপ বিস্ময়ের সঙ্গে চারিদিকে চাহিতে লাগিল । এ ঘর যে মণীশের, তা যেন বিশ্বাস করা যায় না। যার মাথায় একটি চুল সে কোনদিন স্থানভ্রষ্ট দেখে নাই, তার ঘরে এমন বিশৃঙ্খলা এমন দারিদ্র্যের ছাপ। টেবিলে আর টেবিলের নিচে বই গাদা করা, এক কোণায় জমা করা কতকগুলি ইংরাজী বাংলা সাময়িক পত্রে ধূলা জমিয়া আছে, ট্রাঙ্কও সুটকেশটির রঙ বিবণ, অনেক দিনের পুরানো খাটের বিছানার চাদরটা ময়লা। নূতন সোফা-টেবিলে জমকালো বাহিরের ঘর পার হইয়া বাড়ীর ভিতরের গরীবানা অপরিছন্ন চেহারা দেখিয়াই ত্ৰিষ্টুপ একটু অবাক হইয়া গিয়াছিল, মণীশের নিজের ঘর দেখিয়া সে একেবারে থ বানিয়া গেল । তাকে বসিতে বলিয়াই মণীশ বাহির হইয়া গিয়াছিল। একটু পরেই সে ফিরিয়া আসিল। আরও খানিক্ষণ পরে দু'হাতে দুটি থালায় লুচি আর তরকারি নিয়া একটি মেয়ে ঘরে আসিল। মেয়েটিকে ত্রিষ্টপ কলতলায় বাসন মাজিতে দেখিয়াছিল।