পাতা:আদায়ের ইতিহাস - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৩৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


V8 verg অবিনাশের মনে ছিল না ; কিন্তু ত্ৰিষ্টুপের এখন মনে পড়িয়া" গেল, রমেশ টাকা ধার চাহিতে আসিলে, তিনি টাকা ধার দিতে অস্বীকার করিয়াছিলেন। বলিয়াছিলেন, “ধার দিতে পারব না, বাবা । ধার চাওয়াটাও তোমার উচিত হয়নি। তুমি এমনি টাকা নাও । আমার কাছে টাকা নিতে তোমার অপমান কি ? তুমি তো আমার ছেলের মত ।” ছেলের মত বলিয়া তাকে ধার দেওয়ার বদলে একেবারে দান করিতে চাওয়ায় রমেশের রাগ হইয়াছিল। এতদিন সেই রাগ মনে পুষিয়া রাখিয়াছে, আজ সেই ঝাল মিটাইতে চায়। ত্ৰিষ্টুপের যেন ধাঁধা লাগিয়া গেল। এক বিষয়ে এত তীক্ষ মান অপমান জ্ঞান, এত তেজ, অথচ সবটাই বিকার । কতকগুলি বিষয়ে মানুষটা সুস্থ ও স্বাভাবিক, আবার কতকগুলি বিষয়ে এমন খাপছাড়া বলিবার নয়। বেকার জীবন কি এমনি সব মানসিক রোগের সৃষ্টি করে ? অবিনাশ আনন্দ ও আবেগে রমেশের হাত চাপিয়া ধরিলেন । -‘না বাবা, অপমান কিসের । এখন তো দরকার নেই, দরকার থাকলে তোমার কাছ থেকে নিতাম বৈকি। নিজে চেয়ে নিতাম।” খোচাটা বিধিল না দেখিয়া রমেশ ৰোধ হয় একটু ক্ষুন্ন হইয়াই চলিয়া গেল । কোথায় কি কাজ সে পাইয়াছে, এত টাকা হঠাৎ সে কোথা হইতে পাইল, এ সব স্পষ্ট করিয়া কিছুই তার কাছে জানা গেল না । প্রশ্ন করিয়া পাওয়া গেল শুধু ভাসা ভাসা জবাব। ঠিক চাকরী নয়, এজেন্সীর মত কি যেন তার একটা জুটিয়াছে। ত্ৰিষ্টুপের মনে আঘাত লাগিল বৈকি! স্বামীর ধার করা পচিশটা টাকা তার গায়ের উপর ছুড়িয়া দিয়া প্ৰভা তাকে যে ভাবে আঘাত করিতে চাহিয়াছিল। সে ভাবে নয়। রমেশের অবস্থার আকস্মিক পরিবর্তনটাই তাকে যেন বাকি দিয়া গেল। রমেশ অপদাৰ্থ জীবনে কোনদিন তার অভাব ঘুচিবে না, এই ছিল মানুষটা