পাতা:আদায়ের ইতিহাস - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


R tags উদ্দেশ্য খুব ভালো সন্দেহ নাই। স্বপ্নে সে কারও উপর রাগ করে নাই, শুধু একটু সহানুভূতির জন্য ব্যাকুল হইয়া শোকের প্ৰকাশটা আরও জোরালো করিয়া তুলিয়াছিল। কেমন করিয়া সকলকে সে বুঝাইয়া দিবে যে, তারা ভুল করিতেছে, এভাবে তার শোক শান্ত করা যাইবে না ; সকলে তার সঙ্গে একটু কঁাদিলেই বরং তার ব্যথা জুড়াইয়া যাইবে, ভাবিয়া স্বপ্নে বুকটা যেন ফাটিয়া যাইতেছিল। ঘুম ভাঙ্গিবার পর সকলের উপর সে একটা তীব্র বিদ্বেষ অনুভব করিতেছে। স্বপ্ন মিলাইয়াই গিয়াছে স্বপ্নে, এখন শুধু আছে একটা বেদনামাখা বিস্ময়কর ভার-বোধ এবং সকলের নির্মমতার বিরুদ্ধে অভিমান-ভরা নালিশ । ছেলে তার নাই। এ পর্যন্ত বিবাহ সে করে নাই । স্বপ্নের কথা ভাবিয়া তার হাসি পাওয়া উচিত ছিল । কিন্তু স্বপ্নের কথা সে ভাবিতেছে না, স্বপ্নের প্রভাবটা শুধু তার ভাবনাকে নিয়ন্ত্রিত করিতেছে । তার কেউ নাই। সকলে তার পর । তার কিছু নাই। কেউ তাকে কিছু দেয় নাই । সংসারের কলরব কানে আসিতেছিল । তাকে বাদ দিয়াই সকলে কলরব করিতেছে। স্বপ্নের মত সে - যদি এখন শূন্যে মিশাইয়া যায়, কারও কিছু আসিয়া যাইবে না, এমনি ভাবে কলরব করিয়া চলিবে দিনের পর দিন। এ যে ছেলেমানুষী চিন্তা, ত্ৰিষ্টুপ তা বুঝিতে পারিতেছিল, কিন্তু উপায় কি! চিন্তাগুলি আজ যেন স্বাধীন হইয়া গিয়াছে, এতদিনের ধরা-বাধা পথে শিক্ষিত সৈন্যের মত সংস্কারগত নির্দেশের তালে তালে পা ফেলিয়া চলিতে রাজী নয়। এই ধরনের আরও কত চিন্তা কোথা হইতে আসিয়া তার মনে খেলা করিয়া বেড়াইতে লাগিল, সংযত করিবার কোন চেষ্টাই কাজে डांजिव्न न । সাত বছরের একটি মেয়ে দরজার ফঁাকে ডাক দিয়া চীৎকার