পাতা:আদায়ের ইতিহাস - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৪৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


VEN মাথা টনটন করিতেছে, সমস্ত শরীরে জ্বর-ছাড়া বিশ্ৰী অবসন্নতা বোধ করিতেছে। তবু তার আপশোষ নাই। সে ভুলিতে পারিতেছে না যে রহস্যময় জীবনের একটি ধর্ম সে আবিস্কার করিয়াছে। মৃতপ্ৰায় মানুষও বিদ্রোহ করে, করিতে পারে। অবস্থার চাপে, শিক্ষা-দীক্ষা-আবেষ্টনীর চাপে, স্বাস্থ্যহীন। শুষ্ক নীরস একঘেয়ে জীবনের চাপে, মানুষ যত প্ৰাণহীণ নিস্তেজ হোক, বিদ্রোহের প্রেরণা তার মরেন । তার সহকমী তিন জন তাই বেতন পাওয়ার পর মাসে একদিন ফুর্তি করে আর কোন পথ খুজিয়া পায়না, তাই এই ভীরু দুর্বল মানুষ তিনটি এই ভাবে বিদ্রোহ করে। একঘেয়ে, নিরুপায়, অবসন্ন জীবন যাপনের বিরুদ্ধে, দিনের পর দিন কলের মত সুবোধ সুশীল ভাল মানুষ হইয়া থাকায় বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে । বিছানা ছাড়িয়া উঠিয়া দাঁড়ান মাত্র মাথা ঘুরিয়া পড়িয়া যাওয়ার উপক্রম হয়, বইয়ের সেলফটা ধরিয়া ত্ৰিষ্টুপ ভাবে, তা হােক। এ দুর্বলতা কিছু নয়। মন তার সবল হইয়াছে। আর কোন দিন সে হতাশ হইবে না। হতাশা বোধ করিলেও আসিয়া যাইবে না। কিছুই, সে শুধু হইয়া থাকিবে হৃদয় মনের একটা বদ অভ্যাস। যতদিন সে পৃথিবীতে বাঁচিয়া থাকিবে, তার লড়াইয়ের ক্ষমতা আর কিছুতেই নষ্ট হইবে না। নিজের সমস্ত পাওনা আদায় করার চেষ্টা ছাড়া অন্য কোন লড়াই কোন দিন ভালও লাগিবে না। নিচে নামিতেই সে সামনে পড়িয়া গেল অবিনাশের। ক্ষুব্ধ দৃষ্টিতে তার দিকে একবার চাহিয়াই নীরবে সরিয়া গেলেন। রাণু জিজ্ঞাসা করিল, “তোমার অসুখ করেছে, মামা ?” প্ৰভা খোটা দিয়া বলিল, “তুমিও এমনি করে গোল্লায় যাবে, তা আমি আগেই জানতাম । চাকরী বাকরী করে নিজের ভাগ্নীকে একটা জামা পৰ্যন্ত যে কিনে দেয় না, মদ না খেলে সে খাবে কি..!” ■