পাতা:আদায়ের ইতিহাস - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ইতিহাস NO করিয়া বলিল, ”বারোটা পৰ্যন্ত ঘুমাবে নাকি মামা, বিছানা ছেড়ে ऐठे८द ना ? ‘এদিকে শোন, রাণু।” রাণু নিৰ্ভয়ে কাছে আসিল। মামা তাকে বড় ভালবাসে। হয় তো। কাল রাত্রে বাড়ী ফেরার সময়ে তার জন্যে কিছু কিনিয়া আনিয়াছে, নয় তো তাকে একটু আদর করিবার শখ জাগিয়াছে মামার। মুখে প্ৰত্যাশার হাসি ফুটাইয়া রাণু কাছে আসিয়া দাঁড়ানো মাত্র ত্ৰিষ্টুপ সজোরে তার গালে একটা চড় বসাইয়া দিল! “ইয়াকি হচ্ছে আমার সঙ্গে, না ?” এ তো আদর নয়, রাগের ভানে খেলার ছলে শাসন করা নয়। চমক ভাঙ্গিয়া আঘাতের বেদনায় চীৎকার করিয়া কঁাদিতে রাণুর একটু সময় লাগিল। ততক্ষণে বিছানা হইতে নামিয়া ত্রিষ্টপ গঢ় গট করিয়া ঘরের বাহিরে চলিয়া গিয়াছে। একটি ছোট দোতলা বাড়ীর একতলায় তাহদের অধিকার । ত্ৰিষ্টুপি ঘুমায় বৈঠকখানায়। দিনের বেলা তার বিছানা ভিতরে টানিয়া আনা হয়, রাত্রে আবার বৈঠকখানায় চৌকিতে বিছানাটি পাতিয়া দেওয়া হয়। ঘরটিতে দোতলার ভাড়াটেদের ভাগ আছে ; দিনের বেলা ত্ৰিষ্টুপ এক ঘরটি দখল করিয়া থাকিলে তারা আপত্তি করে। সারাদিন একটি লোকও তাদের সঙ্গে দেখা করিতে আসে কিনা সন্দেহ, তবু তারা সব সময়ে কোন এক অজানা আগন্তুকের প্ৰতীক্ষা করে এবং কেউ আসিয়া পাছে কিছু মনে করে, এই ভয়ে দিনের বেলা ত্ৰিষ্টুপের বিছানাটি চৌকীর উপর গুটািইয়া রাখিতেও (7 উঠানের এক কোণে তার দিদি প্ৰভা টিউবওয়েলে জল তুলিয়া বড় একটা বালতি ভরিতেছিল, ত্রিষ্টপকে দেখিয়াই জিজ্ঞাসা করিল, “রাণু কঁাদছে কেন রে ?” ত্ৰিষ্ট্ৰপ গম্ভীর মুখে বলিল, ‘মেরেছি।”