পাতা:আদায়ের ইতিহাস - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৫৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ইতিহাস ○ ご

  • লাগিল। কুন্তলা যে কোনদিন তার কাছে এত সহজে বিনা চেষ্টায়

এমন একটা ধাঁধা হইয়া উঠিতে পারে, ত্ৰিষ্টুপ কোনদিন কল্পনাও করিতে পারে নাই। “আমার সঙ্গে বিয়ে হলে তুমি খুন্সী হবে ? ‘छानि ना ?' “তুমি তবে রাজী নাও ?” “আমি রাজীও নই, অরাজীও নই। কেন এসব জিজ্ঞেস করছেন আমাকে ? যা বলবার দাদাকে বলুন।” এ জবাবের পর আর কোন কথা চলে না। আর কিছু বলার সুযোগও কুন্তলা তাকে দিল না, ধীরে ধীরে বাহির হইয়া গেল। ত্ৰিষ্টুপ চুপ করিয়া বসিয়া আকাশ পাতাল ভাবিতে লাগিল। কি জানা গেল এতক্ষণ জেরা করিয়া ? কিছুই নয় ? তার সম্বন্ধে কুন্তলার অনুরাগ বা বিরাগ নাই, অন্ততঃ আছে কি নাই, কুন্তলা নিজে সে হিসাব রাখে না, এটা অবশ্য জানা গিয়াছে। কিন্তু ও জানা জানাই নয়। একটা অস্পষ্ট অনুভূতি ত্ৰিষ্ট্রপকে পীড়া দিতে লাগিল, সে যেন কি একটা ছেলেমানুষী করিয়াছে’-কুন্তলার কাছে করিয়াছে। তার নিজের স্বপ্নকে বাস্তব প্ৰমাণ করার জন্য শিশুর সঙ্গে তর্ক করার মত ছেলেমানুষী । মণীশ আসিলে সে বাবালো গলায় বলিল, “মনিদা, এমনি করে আপনি বোনদের মানুষ করেছেন ? “কেমন করে ত্ৰিষ্টুপি “চারিদিক থেকে মনের আটঘাট বেঁধে রেখে? আপনি বলে দিলে তবে কুন্তলা বুঝতে পারে ওর কি ভাল লাগে, কি ভাল লাগে না ।” মণীশ মৃদু হাসিল।—“তুমি ভুল করছ তিস্থ। ব্যাপারটা ঠিক বুঝতে পারছি না। কুন্তলার মন স্বাধীন ভাবেই গড়ে উঠেছে। আমি শুধু ওর মনে রোমান্স সৃষ্টি হতে দিই নি। ওকে নিয়ে তোমার মনে যে প্ৰতিক্রিয়া চলছে, ও তা ধারণাও করতে পারবে না।”