পাতা:আদায়ের ইতিহাস - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৬৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


VeR vass “ভুল হয়নি ? আচ্ছা, দেখিয়ে দিচ্ছি ভুল হয়েছে কিনা।” কুন্তলার হাত ধরিয়া সে হিড়হিড় করিয়া বিছানার কাছে টানিয়া লইয়া গেল। নিজে বসিয়া দু’হাতে তাকে বুকে জড়াইয়া ধরিল। তখন সে অনুভব করিল, কুন্তলার বুকের মধ্যে হৃৎপিণ্ডটা টিপা-টিপ , করিতেছে। এতক্ষণ পরে কুন্তলার মুখ একটু বিবৰ্ণ হইয়া গিয়াছে, তার চোখে দেখা দিয়াছে উদভ্ৰান্ত দৃষ্টি ! “ভুল হয়নি মনিদার ?” কুন্তলার চোখের দিকে চাহিয়া থাকিতে থাকিতে ধীরে ধীরে ত্ৰিষ্টুপের হাতের বন্ধন আলগা হইয়া আসিল। কুন্তলা ইচ্ছা করিলেই সরিয়া যাইতে পারিত ; কিন্তু ত্রিষ্টপ সম্পূর্ণরূপে মুক্তি না দেওয়া পৰ্যন্ত সে নড়িল না । “আমি হার মানলাম কুন্তী, মনিদার ভুল হয়নি।” ‘সংস্কার কি এত সহজে জয় করা যায় ?” ‘সংস্কার নাকি ?” “অসাহায়ের ওপর দরদ আপনার রক্তে মিশে আছে।” কিছুক্ষণ দু’জনে চুপ করিয়া রহিল। “চল তোমায় দিয়ে আসি কুন্তী !” “চলুন।” কিন্তু কেউ উঠিল না, দু’জনেই যেমন বসিয়াছিল। তেমনি বলিয়া রহিল। ত্রিষ্টপ সহজ সুরে বলিল, “আমাকে ক্ষমা কর। জীবনে অনেক কিছু আদায় করব বলে ছকেছিলাম তার মধ্যে প্ৰথম ছিলে তুমি। প্রথমটাতেই ব্যর্থ হব ?-ভাবলেই মনে হচ্ছিল সমস্ত জীবনটাই তা’হলে ব্যর্থ হয়ে যাবে। আর কোন উপায় ছিল না, তাই এই খাপছাড়া উপায়টা দিয়ে চরম চেষ্টা করব ভেবেছিলাম। অন্য উপায় থাকলে-” ‘অন্য উপায় তো ছিল ।”