পাতা:আদিশূর ও বল্লালসেন.pdf/১১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আদিশূর ও বল্লাল সেন। ব্রাহ্মণের সমাদরে অগ্রসর হইলেন না। ব্রাহ্মণগণ নৃপতির ঈদৃশ অসৌজন্যে বিরক্ত হইয় প্রত্যাবর্তনে কৃত-নিশ্চয় হইলেন । কিন্তু তপোবল ও আত্ম-মহিমা প্রকাশাখ শুষ্ক মল্লকাষ্ঠোপরি আশীৰ্ব্বাদ স্থাপন মাত্রে বিগত-জীবন শুষ্ক স্কন্ধ হইতে তৎক্ষণাৎ অঙ্কুর নির্গত হইল। স্ট্র এই অলৌকিক ঘটনা দৌবারিকগণ কর্তৃক রাজসমীপে নিবেদিত হইলে আদিশূর স্বীয় অবিমুষ্যকারিত অবধারণ করতঃ স্বয়ং অগ্রসর হইয় ব্রাহ্মণদিগকে স্তুতিবাদে সন্তোষিত করিলেন, এবং তাহাদিগকে রাজভবনে আনয়ন করিয়া ঈপ্সিত কাৰ্য্যান্তে বহুল

  • বিক্রমপুরান্তর্গত মেঘনা নদীর পূর্ব উপকূলে রামপাল নামক স্থানে প্রায় দুই মাইল দীর্ঘ এক প্রকাণ্ড সরোবরের খাত বিদ্যমান আছে। এই সরোবরের নাম রামপাল দীঘি এবং এই নদী হইতে উক্ত স্থানের নাম রামপাল হইয়াছে । সরোবরের অনতিদূরে পরিখাবেষ্টিত কতিপয় পুরাতন অট্টালিকার ভগ্নাবশেষ দেখিতে পাওয়া যায়, তন্নিকটবৰ্ত্তী গ্রাম সকলের অধিবাসিগণ এই ভগ্ন অট্টালিক। বল্লালের রাজ-প্রাসাদ বলিয়া পরিচয় দেয়। পরিখার স্থানে স্থানে নষ্ট হইয়া গিয়াছে, কিন্তু বেষ্টিত ভূমি খণ্ডের বিস্তৃতি এবং বাহাবয়ব দৃষ্টে স্পষ্ট প্রতীত হয়.যে এই স্থান এক অতি প্রবল পরাক্রান্ত এবং ধনশালী রাজার রাজধানী ছিল । ভগ্ন প্রাসাদের পুরদ্বারে একট প্রাচীন গজাড়ী বৃক্ষ বিদ্যমান আছে। সকলেই এই গজাড়ী বৃক্ষটকে আদিশূরানীত পঞ্চ ব্রাহ্মণ প্রদত্ত আশীৰ্ব্বাদে জীবিত মল্পকাষ্ঠ বলিয়া নিদর্শন করে । এই একটা মাত্র বৃক্ষ ভিন্ন রামপালের চতুস্পার্শ্বে আর কুত্ৰাপি গজাড়ী বৃক্ষ নাই। চতুষ্পার্থের অজ্ঞ ব্যক্তিরা এই বৃক্ষকে দেবতাস্বরূপ সম্মান করে, এবং অপুত্রবতী রমণীরা সন্তান লাভার্থ বৃক্ষমূলে পূজা মানসা করে। এই স্থানে ইষ্টক নিৰ্ম্মিত একটী কুপ আছে, সাধারণের সংস্কার এই বল্লাল ইহাতে অরি প্রজ্জ্বলিত করিয়া প্রাণত্যাগ করিয়াছিলেন। রামপালের চতুষ্পাশ্বে প্রস্তর নিৰ্ম্মিত অনেকগুলি মূৰ্ত্তি মৃত্তিকার নিম্ন হইতে উত্তোলিত হইয়া ঢাকা নগরীতে রক্ষিত আছে। এবং ইহার চতুষ্পার্শ্বে ৪। ৫ মাইল লইয়া মূৰ্ত্তিকার নিম্নে স্থানে স্থানে পুরাতন ইষ্টক প্রাপ্ত হওয়া যায়। এই স্থানের বিবরণ রামপালের বিবরণ নামক পুস্তকে দ্রষ্টব্য।