পাতা:আমার বাল্যকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


जां भाँ दू दां का क थीं আমাদের মনে স্পষ্ট প্ৰতিভাত হলা-পর্দা উচ্ছেদ-স্পৃহা আরও জেগে৷ উঠল। কিন্তু তখন ভাল করে দেখতে পেলুম আমার সামনে যে পৰ্বত সমান বিস্ত্রবাধা তা অতিক্রম করা কি কঠিন ! যে প্ৰচণ্ড গড়ের মধ্যে আমাদের মেয়েরা আবদ্ধ, সে দুর্গ ভেদ করা কি দুরূহ ব্যাপার ! অথচ আমার তা না করলেই নয়। তখন সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা পাশ করে ফিরে এসেছি।--বোম্বাই আমার কর্মস্থান নিয়োজিত হয়েছে-বোম্বাই যেতেই হবে, আর আমার স্ত্রীকেও সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। স্ত্রী-স্বাধীনতার দ্বার খোলবার এক মহা সুযোগ উপস্থিত। তখন আবার কলকাতা ও বোম্বাইয়ের মধ্যে রেলপথ প্ৰস্তুত হয়নি— জাহাজে করে যেতে হবে । বাবামহাশয় তাতে কোন উচ্চবাচ্য করলেন না। এখন কথা হচ্ছে ঘাটে উঠা যায় কি করে ? গাড়ী করে ত যাওয়া চাই ? আমি প্ৰস্তাব করলুম। বাড়ী থেকেই গাড়ীতে উঠা যাক। কিন্তু বাবামহাশয় তাতে সম্মত হলেন না-বল্লেন মেয়েদের পান্ধী করে যাবার নিয়ম আছে তাই রক্ষা হোক। অসূৰ্যস্পষ্ঠ কুলবধু কৰ্মচারীর চাখের সামনে দিয়ে বাহির দেউড়ি ডিঙ্গিয়ে গাড়ীতে উঠবেন, এ তার কিছুতেই মনঃপূত হল না। এই ত গোল পর্দা ভাঙ্গার প্রথম অবস্থা। আমি প্ৰথমবার বোম্বাই থেকে বাড়ী এসে আমার স্ত্রীকে গভর্ণমেণ্ট হাউসে নিয়ে গিয়েছিলুম। সে কি মহা ব্যাপার । শত শত ইংরাজমহিলার মাঝখানে আমার স্ত্রীসেখানে একটি মাত্র বঙ্গবালা-তখন প্ৰসন্নকুমার ঠাকুর জীবিত ছিলেন। তিনি তা ঘরের বোঁকে প্ৰকাশ্যস্থলে দেখে রাগে লজ্জায় সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে গেলেন। এখন এসব কথা গল্পের মতই মনে হয়। এইরূপে ক্ৰমে স্বাধীনতার পথ সহজ ও পরিষ্কৃত হয়ে এল। ক্রমে আমাদের বাড়ীর লোকের (মেয়ে পুরুষ) আমার ওখানে গিয়ে মধ্যে মধ্যে প্ৰবাসা-যাপন করতে লাগলেন । ওদেশে বোম্বাই মান্দ্ৰাজে কোথাও বাংলা দেশের মত মেয়েদের অবরোধ প্ৰথা নেই। স্ত্রী-স্বাধীনতার মুক্তবায়ু সেবন করে তঁদের মনোভাব