পাতা:আমার বাল্যকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


'अ भी ब्र बां जा क था Y R নানা বিষয় আলোচনা করতে না পারলে আমার পক্ষে ভারতভ্ৰমণ বৃথা হত। আমার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক তো শুধু উপর থেকে নয়, তাহা বহু শতাব্দীর ভিতর দিয়ে। কেবল যদি কলিকাতা বা বােম্বাই ঘুরে আসা আমার উদ্দেশ্য হত তাহলে তো বিলাতের অক্সফোর্ড বা বণ্ড ষ্ট্রীট একবার বেড়িয়ে এলেই হয় ! “কিন্তু যদিও আমি কোন দিন ভারতে পদাৰ্পণ করিনি তথাপি আমার সৌভাগ্যবশতঃ য়ুরোপে ভারতের কয়েকজন অসাধারণ প্ৰতিভাশালী ও সুযোগ্য সন্তানের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব হয়েছিল। অনেকে আমাকে বলেন যে, এই সকল মহৎ-চরিত্র ব্যক্তিগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরিচয় হওয়ায়, ভারতবাসীর চরিত্র সম্বন্ধে আমার একটা ভুল ধারণা জন্মেছে : কারণ সর্ব বিষয়ের উৎকৃষ্টতা দেখন্তাম কিন্তু নিকৃষ্টতা কিছু জানতে পারলাম না। আমার মনে হয়-তাতে ক্ষতি কি ? ভারতবাসীর চরিত্রের চরমোৎকর্ষ যে কতদূর হইতে পারে তাহা তো দেখলাম। অবশ্য আমি এমন আশা করি না যে, একটা সমগ্ৰ জাতি কেবল রামমোহন রায় দ্বারকানাথ ঠাকুর, দেবেন্দ্ৰনাথ ঠাকুর, কেশবচন্দ্র সেন, মালাবারী বা রমাবাইয়ের ছাচে ঢালা হবে, কিন্তু তা বলে, যে দেশের মধ্যে থেকে এই সব মহাচ্চরিত্র লোক জন্মগ্রহণ করেছেন সে দেশের জাতীয় চরিত্র উপেক্ষা করবার নয়। “৫০ বৎসর পূর্বে ভারতবাসীরা এমন অবাধে ভ্ৰমণ করত না। কালাপানি পার হওয়ার বিভীষিকা তখন খুব প্ৰবল ছিল ; সুতরাং ১৮৪৪ সালে যখন একদিনে সাহরাময় রাষ্ট্র হইল যে ভারতের একজন নিষ্ঠাবান হিন্দু প্যারিসে এসেছেন এবং সর্বোৎকৃষ্ট হােটেলের সর্বোৎকৃষ্ট গৃহে বাস করছেন, তখন প্যারিসে হুলস্থূল পড়ে গেল এবং আমারও র্তার সঙ্গে আলাপ করবার জন্য মন চঞ্চল হয়ে উঠল। আমি তখন কলেজ-ডি ফ্রান্সে প্রোফেসার বারমুফের কাছে সংস্কৃত শিক্ষা করতাম, এবং যখন দেখলাম যে নবাগত ভদ্রলোকটি আমারই এই প্রোফেসারের কাছে পরিচয়-পত্ৰ নিয়ে এনেছেন, তখন তঁর সঙ্গে আলাপ