পাতা:আমার বাল্যকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Sir vi ai 3 < <ș « সে যথাসময়ে এসে উপস্থিত কিন্তু বড়দাদার কিছুই মনে নেই-তাকে খাওয়ান দূরে থাকুক তার সামনেই নিজের খাবার খেয়ে যাচ্ছেন। অথচ তাকে তার ভাগ দেবার কোন কথাই নেই। সে বেচারা প্ৰতীক্ষা করে আছে কখন তার জন্যে খাবার আসে-এদিকে রাত হয়ে যাচ্ছে -শেষে বড়দাদার ভুল ভেঙ্গে গেলে হাকাহাকি ডাকাডাকি পড়ে গেল -একজন বড়দাদার সঙ্গে দেখা করতে এসেছে-বড়দাদা ঠিক সেই সময় বেরবার উদ্যোগে আছেন—ৰ্তার বন্ধুর গাড়ী নিজের গাড়ী মনে করে তাতে চড়ে বেরিয়ে পড়লেন, সে বন্ধু বসেই আছেঅনেকক্ষণ পরে বাড়ী ফিরে এসে দেখেন তার বন্ধু এখনো সেখানে বসে-বড়দাদ শেষে কারণ জানতে পেরে অপ্ৰস্তুত ও হাসতে হাসতে তঁর বন্ধুর পীঠ চাপড়ে তাকে সান্তন করলেন। বনের জন্তু পাখী বশ করবার বড়দাদার আশ্চর্য ক্ষমতা, যেমন সাধু তুকারামের কথা শোনা যায়। সেই রকম । তিনি সকালে তার এজলাসে বসে আছেন আর কত চড়াই, সালিক ও অন্য পাখী তার কাছে এসে র্তার হাত থেকে খাচ্ছে-‘চড়াই পাখী চাউল খাকী আয়না ঠোকরাণা’ এই আদুরে ভাষায় চড়াইকে ডাকছেন। কত কাঠবেড়ালী তার গায়ের উপর দিয়ে নিৰ্ভয়ে চলে যাচ্ছে। ইন্দুরও খাবার ভাগ পায়। কাকের তো কথাই নেই। ওরা নাই’ পেলে ত মাথায় চড়বেই। কিন্তু কাককে প্রশ্ৰয় দিলে অন্য পাখীদের উপর জুলুম করা হয়। একদিন তিনি বিরক্ত হয়ে একটা দাড় কাককে মেরে তাড়িয়ে দিতে বলেছিলেন। পরদিন দেখেন সে কাক যথাসময়ে তার মজলিসে হাজির নেই। এই দেখে হুলুস্কুল বেধে গেল ! সে কোথায় খোজ খোেজ। খুঁজতে নানা দিকে চর পাঠান হল, তারা দ্যাখে সে কাক কোন একটা দূরের গাছে বসে আছে- তাকে আনিয়ে বড়দাদা। তবে সুস্থির । বড়দাদার যা নিত্য নিয়মিত প্ৰাতঃস্নান ঠাণ্ডা জলোঁ-তা চিরকালই সমান চলেছে-শাতে গ্রান্মে রোগে অরোগে তার আর বিরাম নাই। তঁর জ্বর কি কোন অসুখ হলে সেই স্নান বন্ধ করবার জন্যে