পাতা:আমার বাল্যকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


vi আমি ছেলেবেলা থেকেই স্ত্রী-স্বাধীনতার পক্ষপাতী। মা আমাক্সে অনেক সময় ধমকাইতেন, “তুই মেয়েদের নিয়ে মেমদের মত *र्ट्स মাঠে ব্যাড়াতে যাবি নাকি ?” আমাদের অন্তঃপুরে যে কয়েদখানার মত নবাবী বন্দোবস্ত ছিল তা আমার আদবে ভাল লাগিত না । আমার মনে হত এই পর্দা প্ৰথা আমাদের জাতির নিজস্ব নয় মুসলমান রীতির অনুকরণ। অনুকরণ এবং মুসলমান অত্যাচার হতে আত্মরক্ষা এই দুই কারণ হতে তার উৎপত্তি হতে পারে। আমাদের প্রাচীন হিন্দু আচার অন্যতর। এই অবরোধ প্ৰথা আমার অনিষ্টকর কুপ্ৰথা বলে মনে হত। আমি গোপনে আমার এক বন্ধুকে বাড়ীর ভিতরে নিয়ে গিয়ে আমার স্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেবার জন্য কত ফন্দী করা তুমি এখন মনে হলে হাসি পায়। John Stuart Mill-এর Subjection of Women গ্ৰন্থ আমার সাধের পাঠ্য পুস্তক ছিল ; আর তাই পডে “স্ত্রী-স্বাধীনতা’ নামে এক Pamphlet বের করেছিলুম। বিলেত গিয়ে আমি দেখতুম স্ত্রী পুরুষ কেমন স্বাধীনভাবে সামাজিক ক্ষেত্রে মেলামেশা করছে।-গাহস্থ্যি জীবনে তাদের মেয়েদের কি মোহন সুন্দর প্রভাব। কত বিবাহিত অবিবাহিত রমণী সমাজের বিবিধ মঙ্গলব্ৰিতে জীবন উৎসর্গ করে স্বাধীনভাবে বিচরণ করছেন। আমি একবার একটি সম্রান্ত উচ্চ পরিবার মধ্যে অতিথিরূপে কতিপয় দিবস যাপন করেছিলুম। গৃহে অনেকগুলি কন্য কুমারী ছিলেন-সমস্ত গৃহকার্যে তঁহাদেরই আধিপত্য । বিদায় নেবার সময় তঁহাদের খাতায্য স্মরণ-চিহ্ন স্বরূপ আমার হস্তাক্ষর রেখে যেতে অনুরোধ করাতে আমি লিখেছিলুম-“ন্ত্ৰিয়ং শ্রিয়াশ্চ। গেহেষু ন বিশেষোহস্তি কশ্চন ।” তাদের তুলনায় আমাদের স্ত্রীরা পর্দার অন্ধকারে কি খবীকৃত বদ্ধ জীবন যাপন করেন,-উপযুক্ত ক্ষেত্রের অভাবে তাদের মন কি সঙ্কীর্ণ —তাদের স্বাভাবিক জ্ঞানবলক্রিয়া কিছুই ফুর্তি পায় না। বিলেত থেকে ফিরে এসে এই বিষয়ে পূর্বপশ্চিমের পরস্পর বিপরীত ভাব