পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আবছা ভেসে ওঠে শিয়ালদ’ স্টেশনের ছবিটা। লোকজন গিসগিস করছে। তার মাঝে একটি পরিবার বানে ভাসা খড়কুটাের মত এসে ঠেকেছে সেই জঞ্জালের স্তুপে। তখন থেকেই অভাব কষ্টকে দেখছে সাবিত্রী। ছেলেবেলা থেকেই নিরাভরণ নিঃস্বতাকেই দেখেছে সে। বাবা তখন এখানে এসে কোথাও কাজকর্মের সন্ধান করছেন । আজও সেই দিনগুলোকে এরা ভোলে নি । --বেলা হয়ে গেছে। বাবা। চান করবে না ? ওঠে। সাবিত্রী মন থেকে সেই কালো ছবিগুলোকে মুছে ফেলতে চায়। আজকের দিনও তার মনে কোনো আলোকোজজুল রেখাপাত করে নি। বসন্তবাবু বলেন মেয়ের কথায়। --যাচ্ছি মা ! আবার একবার বের হতে হবে। বেলা হয়ে এল। সাবিত্রীও জানে বাবা কোথায় যান। এখন তার একমাত্র আশ্বাস যদি কিছু সুরাহা হয়। একটা পেনসনের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন তিনি। এই নিয়ে অশোকও আড়ালে ব্যঙ্গ করে বাবাকে । সে বলে । ——ভাড়াটে দেশপ্রেমিক, আজ তার কাজের দাম চাইতে লজা করে না ? সাবিত্রীর ওসব কথা ভালো লাগে না। অশোক যেন একটা ইতর হয়ে উঠেছে দিন দিন । অশোকটার কথাবার্তাও বিশ্ৰী। কাউকে সে মান-খাতির করে কথা বলতে জানে না। ভাবে সব কিছুর উপরই তারা টেক্কা দিয়ে সর্দারি করে যাবে। তার এতে কথা বলার কি আছে ? সাবিত্ৰীও জানে এসব দরখাস্তে কিছুই হবে না। তাই সাবিত্রী শুধোয় বাবাকে । – এই সব দরখাস্ত হাতে নিয়ে যাবার কোনো দাম আছে। বাবা ? কতো জনে কতো কথা বলে। তার চেয়ে তোমার ওই চেনাজােনা মন্ত্রী-নেতাদের ধরে করে দাদার একটা চাকরীর ব্যবস্থা করতে বলো না ? তবু একটা কাজ হবে বড়দার। বাসস্তবাবু মেয়ের কথাগুলো গুনছেন । এটা তিনিও জানেন । তবু মনে হয় আজকের ছেলেমেয়েরাও নিজেদের সম্মান সম্বন্ধে অনেক বেশী সচেতন। সাবিত্রী বলে চলেছে ? O