পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১০০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


—-দেখলাম সে মরে নি। সেই জ্বালায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে সে বেঁচে উঠেছে নতুন করে। তাই বলতে এসেছিলাম আরও এগিয়ে যেতে হবে সাবিত্রী, পথ এইখানেই শেষ নয় । --কি বলছি তুমি কাজল! অস্ফুট কণ্ঠে যেন আর্তনাদ করছে সাবিত্রী। বাগানের গাছগাছালির বুকে ঝড় উঠেছে-এলামেলো, ঝড়। কাজল উঠে দাঁড়িয়েছে। সাবিত্রীর মুখচোখে কি ব্যাকুলতা ফুটে ওঠে। এতদিনের ভুল বোঝাবুঝির আজ শেষ হয়েছে। খুশী হয়েছে কাজল।। আজ ওই কাজলকেই যেন চিনতে চেয়েছিল, দেখতে চেয়েছিল সাবিত্রী। কাজল তা জানে। তাই এড়িয়ে গেল সে ! কাজল বলে। --- চলি সাবিত্রী। পরে দেখা হবে। ওর জবাবের অপেক্ষা না করেই কাজলবাবু বের হয়ে গেল। স্তব্ধ হতচকিত সাবিত্রী এক ঘরের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। তার দেওয়া ওই আঘাতগুলো ফিরে এসে তারই বুকে বেজেছে। কাজল আজও বদলায় নি। সে হয়তো অলক্ষ্যে থেকে তার এগিয়ে যাবার এই পথগুলো বাধামুক্ত করেছে। সাবিত্রীর মনে হয় নিজের সম্বন্ধে তার সব ধারণাগুলো বদলে যাচ্ছে। কোথায় একটা পাখী ডাকছে ব্যাকুল সূরে। কতক্ষণ এভাবে বসেছিল জানে না সে। বোধহয় অনেকক্ষণ একই রয়েছে সে। তার সব ধারণা আর মনের শূন্যতা কি ব্যাকুল বেদনায় রঙীন হয়ে ওঠে। কার ডাকে চমকে চাইল সাবিত্রী। সুলেখাদিরা ফিরেছে। ও অবাক হয় সাবিত্রীকে এইভাবে বসে থাকতে দেখে । শুধোয় সুলেখা। —এখনও বসে আছো ? খাও নি ? শরীর খারাপ নয় তো ? সাবিত্রীর চমক ভাঙে। নিজের কাছেই লজাবোধ হয়। সেই সদ্য জাগর। ভাবনাগুলোকে চেপে রেখে বলে সাবিত্রী। ---শরীরটা ভালো নেই। আজ। সলেখাদি ওর গালে হাত দিয়ে উত্তাপ দেখতে থাকে। সাবিত্রী বলে,--না জুবিটির হয় নি। এমনি । সূলেখাদি বলে--বডড অনিয়ম করো তুমি। আজ আর গান নয়-পুরো রেস্ট নেবে। বুঝলে ? >○ミ