পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১০৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এ তারই পরাজয়। কোনরকমে সরে এল ওপাশের অন্ধকার খুপরীটায়। পাশের বাড়ির ভাড়াটেরা তোলা উনুনে আচি দিয়েছে। এদে গলির মধ্যে ধোঁয়ারও যাবার পথ নেই, জমে জমে বাতাস বিষাক্ত করে তুলেছে। আলোটা টিম টিম করছে এদের জীবনের অস্তিত্বের মতই। সুধাময়ী দেখছেন বসন্তবাবুকে। লোকটা শাস্ত-প্রায়ই বলে ওই কথা। সেদিনের কঠিন মানুষটা আজ ভেঙ্গে পড়েছে। শুধোয় সে। —কি গো ? শরীর ভালো নেই ? বসন্তবাবু স্ত্রীর ডাকে মুখ বুজে চাইলেন। জানান। --না। ভালোই আছি। তবে কি জানো? ভেতরটা ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। অমৃতেরও কিছু হল না, অশোকের কোন খবরই পাই নি। কোথায় রইল জানি না। মেয়েরও বিয়ে-থা দিতে পারলাম না, আশ্রয়ের ঠিকানাও নেই। তাই ভাবি বড় বউ—এই কি চেয়েছিলাম। আমরা ? সাবিত্রী ফিরে গেছে সুলেখার ওখানে। তার কি জরুরী কাজ আছে। বাড়িটা শূন্য। বসন্তবাবু আর সুধাময়ী দু’জনে সেই শূন্যতার মাঝে হারিয়ে গেছে। অন্ধকার নেমেছে। ওই হতাশার অন্ধকার নেমেছে। এ বাড়ির মানুষগুলোর জীবনে । কোথাও কোন আশ্বাস নেই। বসস্তবাবুর মনে হয়। অশোকের প্রদীপ্ত তরুণ মন এই বুকচাপা হতাশাকে সহ্য করতে পারে নি। তাই প্ৰতিবাদের প্রচন্ড আক্ৰোশে সে ফেটে পড়েছে। অমৃত পারে নি তা করতে। সে মুখ বুজে প্ৰতাহের কশাঘাতগুলো সয়ে চলেছে। আর সেদিনের বিপ্লবী বসন্ত মজুমদার আজও আপোস করে খুঁকছে বঁাচার বিড়ম্বনা সহ্য করে। ওপাশের লতিকার ঘরে রেডিওটা খোলা রয়েছে। কি একটা অনুষ্ঠান হচ্চিল। কে বক্‌ বক করছে এক নাগাড়ে। হঠাৎ সেই বকুনিটা থেমে গেছে। চমকে ওঠেন বসস্তবাবু, বিচিত্র একটা সুর উঠছে রেডিওতে। মিষ্টি প্রাণময় আর সুরেলা সেই কণ্ঠস্বর। N O(፩