পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১১৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


—ওই অপমান ওকে সহ্য করতে হচ্ছে। ওসব দেখে এখনও তবু বেঁচে আছি। তুমি তো ওর বন্ধু ? অসিতবাবু কি বলতে চান অমৃতকে। অমৃত রাত্রিকে ভালোবাসে না। শুধু বন্ধুত্বই তাদের সম্পর্ক তা ঠিক ভাবে নি। ওই প্রশ্নে বিব্রত বোধ করে অমৃত । অসিতবাবু বলেন কতরকণ্ঠে ওর কাছে এসে। —ওর জন্য কিছু করতে পারো না ? কোন আশ্বাস কি নেই। রাত্রির ? হঠাৎ অসিতবাবু বদলে যান। ওর মুখে-চোখে ফুটে ওঠে কি কাঠিন্য। আপন মনেই বিড়বিড় করতে থাকেন । This way the world ends Not with a bang But with a whimper অসিতবাবু আর্তকণ্ঠে বলেন। —বুঝলে ? প্রচন্ড বিস্ফোরণে ফেটে ভেঙে চুরমার হয়ে নয়—এমনি ঘেংড়ে ঘেংড়ে চাপা কান্নার অতলে সৃষ্টি একদিন রসাতলে যাবে—সেদিনেরও দেরী নেই। ভদ্রলোক আবার ফিরে গেছেন। তখনও ওর সেই অসহায় মর্মের নিস্ফল আকুতিটা এখানের বাতাসে মিশিয়ে আছে। অমৃতের সারা মনকে অভিভূত করে ওই কথাগুলো । রাত্রি ঢুকছে চায়ের পেয়ালা নিয়ে। ততক্ষণে শাড়িটা গোছগাছ করে নিয়েছে। মুখে-চােখে জল দিয়ে এসেছে। ওর মুখে তখনও জলের সজীবতা মুখখানাকে লাবণ্যময় করে তুলেছে। স্নিগ্ধতর কবেছে ওর চাহনিকে। রাত্রির এই যেন আসল রূপ। ওই মেয়েটির মনের অতলের দুঃসহ যন্ত্রণার প্রকাশকে দেখছে অমৃত । রাত্রি ওকে চেয়ে থাকতে দেখে শুধোয়। —কি হল ? কি দেখছে ? এ যেন অন্য ছবি। অমৃত পেয়ালার চুমুক দিতে দিতে জানায় –কিছু না। বেলা হয়ে গেছে। নীচের রাস্তায় তখন অফিসযাত্রীর দল চলছে। অমৃতের খেয়াল হয়। রাত্ৰি যেন চাকরী পেয়েছে। তাই বলে—তুমি আপিস বেরুবে না ? >> a