পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১২০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ভেবে অবাক হয় সাবিত্রী। মানুষটা যেন সত্যিই বিচিত্র। বাইরে ভিতরে তার মিল নেই। কাজলবাবুও এসেছেন। এখানে । সবিস্ত্রী দেখেছে কাজলবাবুর প্রতিপত্তি এ মহলে। তার অনুষ্ঠান শোনার জন্যই এতো জনসমাগম ঘটেছে। কাজলবাবুই বলে সাবিত্রীকে। —এখানে তোমাকে সবচেয়ে ভালো অনুষ্ঠান করতে হবে সাবিত্রী। করবে তা জানি । সাবিত্রী ওর দিকে চাইল। কি ভয়ে ওর বুক দুরুদুরু কঁপিছে। সেদিনের সেই এদো বাড়ির মেয়েটি যেন আগেকার কাজলকে দেখছে। তার মনের বিচিত্র একটা সুর ওঠে। ভয়ে ভয়ে সাবিত্রী বলে । --আনি কি পারবো ? —পারতেই হবে! ওকে আশ্বাস দেন কাজলবাবু। সে ওকে আজ এই সুযোগটা দিয়েছে। বলেন । —জানি পারবে তুমি। তাই এদের কাছে তোমার নাম আমিই করেছিলাম। একটু অবাক হয় সাবিত্রী। ও এতদিনের মেলামেশায় জেনেছে সুলেখাদির মনের অতলে। কাজলবাবুর জন্য একটা ঠাই রয়ে গেছে—আর সেই নিভৃত পরিচয়ের খবর সাবিত্রী জানে। কাজলবাবুও ঘনিষ্ঠভাবেই মেশেন সুলেখাদির সঙ্গে। দু’জনে অনেক জায়গাতেই অনুষ্ঠান করতে গেছেন। কিন্তু আজ সাবিত্রী কাজলবাবুর মুখে ওই কথা শুনে অবাক হয়েছে। কাজলবাবু তার জন্য বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। বলেন কাজলবাবু। —এই তোমার নামখ্যাতি পাবার সময়। এখন তাই এসব অনুষ্ঠানে আসা দরকার। ভালো করে গাওয়া চাই-ই। সাবিত্রী জানে না তার এই অন্য সত্তাকে । গাইতে বসে সে সব ভুলে যায়। সামনে আবছা অন্ধকারে ওই জনতার কালো ছায়াগুলো একাকার হয়ে গেছে। ওদের অস্তিত্বের খবর ভুলে গেছে সে। প্রাণভরে তাই গাইছে। সাবিত্রী। মনে হয় তার সুরের যাদুতে ওই হাজারো মানুষ স্তব্ধ হয়ে গেছে। মুগ্ধ হয়ে গেছে। ཙེ་ དེའི་