পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১২২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাবিত্রীর ভােগর দু'চােখ জলে ভরে ওঠে কি পাবার প্রগাঢ় তৃপ্তিতে। কাজল অবাক হয়। রাত্রি হয়ে গেছে। অনুষ্ঠান চলেছে। সাবিত্রী এই সুরের জগতে তার নিজের আসন করে নিয়েছে। তাই মনে হয় কাজলবাবু আজও তাকে ভোলেনি। —ফিরতে হবে আমাকে। সাবিত্রী জানায়। সুলেখাদি হয়তো জেগে আছে। অনুষ্ঠানের কথাও জানতে চাইবে সে। কাজলবাবু বলেন। —আমার প্রোগ্রাম হয়ে যাক। তোমাকে পৌছে দিয়ে যাবো । সাবিত্রী ওর দিকে চাইল নীরব চাহনিতে। এমনি সন্নিধ্যটুকু পেতে চেয়েছিল তার সারা মন।। আজ সাবিত্রীর বোধ হয় কাজলবাবুইচ্ছে করেই তাকে এড়িয়ে চলেছে এতদিন । যে কোন কারণেই হােক নিজেকে প্রকাশ করতে চান নি । অথচ অন্তরালে থেকে সে সাবিত্রীকে এই জগতে এনেছে। তার খ্যাতি আর প্রতিষ্ঠার পথকে মসৃন করে তুলেছে। সাবিত্রীর সারা মন একটি নীরব মাধুর্যে ভরে ওঠে, রঙ্গীন বৰ্ণময় হয়ে ওঠে তার জগৎ। কলকাতার বাইরের কোন শহরে ও অনুষ্ঠান। ওরা ফিরছে। বােধহয় পূর্ণিমার রাত। ঘুম নেমেছে। আশপাশের লোকালয়ে। নির্জন পথে মাঝে মাঝেই দু’একটা মালবােঝাই লৱী জোরালো আলোর ঝলক তুলে ছুটে যায়। ওই চাঁদের আলোমাখা গাছ-গাছালির বুকে প্রশাস্তি নামে। গাছের ঘন পাতার প্রহরা ভেদ করে কোথায় চাদের আলোর হিজিবিজি কাটা রেখাগুলো মাড়িয়ে গাড়ি চলেছে। ওপাশের দিগন্তপ্রসারী শস্যারিক্ত ক্ষেতে চাদের আলোর বান ডেকেছে। —সাবিত্ৰী! কাজল ও কে ডাকছে। কেমন যেন ঘুম ঘুম ভাব জাগে সাবিত্রীর সারা দেহে-মনে। ওই নিবিড় শাস্তির সাবিত্রীর নিঃসঙ্গ মন যেন একটা আশ্রয় খুঁজে পেতে চায়। Σ Ν8