পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১২৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সুলেখার ঘুম আসে নি। আজ সেও চমকে উঠেছে। কাজল যে মনে মনে একটা অন্য নেশার স্বপ্ন দেখে এই কঠিন সত্যটাকে উপলব্ধি করে আজ শিউরে উঠেছে। সুলেখা। তার নিজের স্বার্থপর নারীমন। তাই কঠিন হয়ে উঠেছে। সচেতন হয়ে ওঠে। সেদিন সুলেখা বের হয়েছে রেকডিং করতে। কি একটা যন্ত্রণা তার সারা মনে ছড়িয়ে রয়েছে। সে বেদনার উৎসমূল কোথায় তা জানে না। সুলেখা, তবু তার অস্তিত্বটাকে অনুভব করে। মনে হয় সুলেখার দিন ফুরিয়ে আসছে, সাবিত্রীও সেটা জেনেছে। রেকডিং শুরু হয়েছে। সুলেখার মনে হয় সে যেন হেরে যাচ্ছে আজ। গলায় ঠিক সুর বসছে না। —একটু দরদ দিয়ে গাও লেখা। সঙ্গীত পরিচালক সুশীলবাবুর কাছে সুলেখার মানসিক চাঞ্চলটো যেন ধরা পড়ে গেছে। ঠিকমত আজি সুরের জগতে ডুবে যেতে পারছে না সে। নিজের কাছেই বিশ্ৰী লাগে সুলেখার। তবলচীও হঠাৎ ঠেক খেয়ে যায়। সুলেখার মত শিল্পীর কাছে হঠাৎ এই লয়ের গোলমালটাও মারাত্মক বলে বোধ হয়। সুলেখার সারা মনে একটা ঝড় ওঠে। আবার শুরু করে সে নতুন করে গাইতে । অন্য সময় যে গান দু’বার টেক করলেই ফাইনাল হয়ে যেতো।--আজি সেখানে চারবার গাইতে হয়েছে। সুশীলবাবু বলেন—শরীর খারাপ নাকি? সুলেখাও লজ্জা বোধ করে। জানাল সে। --মাথাটা ভয়ানক ধরেছে। ঠিক আছে। এবার ফাইনাল টেক করুন। সুলেখা এবার যেন শেষ চেষ্টা করছে। কোনরকমে গেয়ে বের হয়ে এল। গান রেকডিং হয়েছে। কিন্তু সুলেখার মনে হয় এই যন্ত্রণার মধ্যে তার শিল্পীসত্তা কোথায় হার মানছে। কি নিৰ্ম্মফল ব্যর্থতায় গুমরে ওঠে সুলেখার সারা মন। সুলেখা আজ নিজেই বিস্মিত হয়েছে। তার রেকডিং থাকলে কাজলবাবু আসে, অনেকে তাই নিয়ে আড়ালে নানা মন্তব্য করে তা জানে সুলেখা। ওইসব কথাগুলো শুনতে তার ভাল লাগে । কাজলবাবু থাকলে সুলেখা নাকি ভালো গায়। Wifi og g3F7—- >总汉