পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১২৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সুলেখা নিজের হাতে এই বাড়ি-ঘরগুলোকে সাজিয়েছে। এখানে তার ছোষা भाथोंक । মনের অতলে জেগেছে। নীরব সুপ্ত একটি কামনা। সুলেখা গুনগুনিয়ে উঠেছে। কাজল বলে—এ যে দেখছি যাযাবরকে ঘরবাসী করে তুললে লেখা ? সুলেখা ওর দু'চােখের চাহনিতে ছায়াকালো মেঘের ইশারা এনে জানায়।


(কেন ? চিরকালই কি যাযাবর হয়ে থাকতে হবে তোমাকে ?

কাজল হাসে। হালকা উছল কণ্ঠে জানায় সে। --বনমরালীর সন্ধান হয়তো পাবে সে, জানো না সেই কবিতােটা ? বনমালীর প্রেমে আকাশের বুকে থেমে। হাসে সুলেখা—থামবে তুমি ? এ্যাই ? কাজলের হাতে ওর হাতটা, কাজল ওকে কাছে টেনে নেয়। সুলেখার দু'চোখে কি চকচকে আভাস। ওর নারীমন এমনি একাস্তে একজনকে নিয়ে সব ভুলতে চেয়েছে, ঘর বাঁধতে চেয়েছে। --- এ্যাই! কি হচ্ছে? অসভ্য কোথাকার! নিজেকে ছাড়িয়ে কৌতুকময়ী নারী খিলখিলিয়ে হাসছে। সেই হাসিতে কামনার বর্ণালী। এই স্বপ্ন নিয়েই দিন কেটেছে সুলেখার। সুরে ভরে উঠেছে তার মন । আজ সেই বাড়িটার সবুজ স্নিগ্ধতার মাঝে হঠাৎ এসে পড়ে থমকে দাঁড়ালো সুলেখা। জানলাটা খোলা, উজ্জ্বল রূপোলী ফ্লোরেসেন্ট আলোর আভা পড়েছে সবুজ গাছগাছালির উপর। জানলার সামনে দেখা যায় দুটাে ছায়ামূর্তি, চমকে ওঠে সুলেখা। তার সারা দেহে বিদ্যুতের শিহরন খেলে যায়। থমকে দাঁড়ালো সুলেখা। হাসির হালকা সুর ঝর্ণার ধারার মত কলকলিয়ে ওঠে। ঘরের মধ্যে। সাবিত্রী আর কাজল দু’জনে ওই হাসির তুফানে যেন ভেসে চলেছে। সাবিত্রী এসেছিল। এখানে একটা ছবির প্লেব্যাক-এর চান্স পেয়েছে। কাজলবাবুই সেই সুযোগ করে দিয়েছে। দু’জনে কোরাসেও গাইতে হবে একটা গান। তারই রিহার্সেল SV). S