পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৩১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


--তুমি ? লেখা ? সুলেখা ঘরে ঢুকাই থমকে দাঁড়িয়েছে। সবিত্রী সরে গেছে ওপাশে। কি নিবিড় উত্তেজনায় ওর ফর্স মুখ লালচে হয়ে উঠেছে। সুলেখা বলে উত্তেজনা চেপে হিমশীতল স্বরে }


জনতাম না। তাই এসে পড়েছিলাম। চলি ।

সাবিত্রী মুখ বুজে দাঁড়িয়ে আছে। ওকে যেতে দেখে কাজল অবাক হয়-সেকি ? চলে যাচ্ছে। লেখা। দাঁড়াও । সুলেখার জবাব দেবার সাধ্য নেই। তার চোখের দৃষ্টি যেন ঝাপসা হয়ে আসছে। কঁপিছে ওর সারা দেহ কি অপরিসীম উত্তেজনায়। কোনরকমে বের হয়ে এল সুলেখা, ওখানে থাকারও যেন কোন দাবী তার নেই। সাবিত্রী তার সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। খ্যাতি নাম প্রতিষ্ঠার জগতেও সে তার সবকিছু ছিনিয়ে নিতে চায়-এমন কি তার মনের গহনের সেই স্বপ্নটাকেও সাবিত্রী কি নিষ্ঠুর সুলেখা বের হয়ে এসে গেটের বাইরে থমকে দাঁড়ালো। অবাক হয় সে। সেই ঝড়ের পর যেন বর্ষণ নেমেছে। তার দু'চোখে নেমেছে অশ্রুধারা। নিঃসঙ্গ একটি নারী আজ কঁদিছে সব হারানোর বেদনায় { কিন্তু সুলেখা এত সহজে হেরে যাবে না। ও জানে তার নিজের পরিচয় এই মানুষটির কাছে। সাবিত্রীকে আর সহ্য করবে না। সলেখা, আজ বুঝেছে সাবিত্রী তাকে চরম আঘাত হানার জন্য তৈরী হয়েছে। সুলেখা জানে। এরপর তার কর্তব্য কি । রাতের অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে। অমৃত টুইশানি সেরে ফিরছে। রাত্রির কথা মনে পড়ে। বোধহয় রাত্রি এখন কোন হােটেলের বারে বসে কোন রাতের সঙ্গীর কণ্ঠালগ্ন হয়ে মদ গিলিছে। নেশার জোয়ারে ভেসে চলেছে আর তার সঙ্গদানের বিনিময়ে সেই ক্ষণিকের অতিথির বেহিসেবী কিছু টাকা রাত্রির ব্যাগে এসে উঠবে। অমৃত জেনেছে রাত্রির এই গ্লানিময় জীবনের কথা। টাকা হয়তো সে পায়, কিন্তু জানে অমৃত রাত্রির অস্তরের সেই সব হারানোর কান্নাটাকে । ওর বাবা অসিতবাবুও জানেন না। আজ মেয়ে কোথায় নেমেছে। ভাবেন Sv)w)