পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৩৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ওই টর্চের আলোয় চোেখ ঝলসে গেছে। ওদের মধ্যে থেকে কে বলে--অশোকের দাদা না ? ধরা ওটাকে । অমৃত বুঝতে পারে না কি তার অপরাধ। ওদের একজনের হাতে খোলা একটা বড় ছোরা। সে ভারী গলায় শুধোয় অমৃতকে। -সে শ্লা কোথায় ? ঐ অশোক! অমৃত অশোকের কোনো খবরই জানে না। অনেকদিন সে বাড়ি ছাড়া। অমৃত জবাব দেয়-আমি জানি না। বাড়িতেও আর আসে না সে। --মিছে কথা। সাতদিনের মধ্যে যদি তার পাত্তা না পাই তোমাকেও ছেড়ে কথা বলবো না | অমৃত কোন জবাব দিতে পারে না। ছায়ামূর্তির দল অন্ধকারে মিশিয়ে গেছে। কে দূর থেকে হুঙ্কার ছাড়ে। --চলে যাও এখান থেকে, তবে কথাটা যেন মনে থাকে। সেভেন ডেজ। অমৃত অন্ধকারেই পা বাড়ালো। ভয়ে সে কাঠ হয়ে গেছে। অমৃত বাড়িতে এসে দেখে সেখানে যেন থমথমে ভাব। বাসস্তবাবু তখনও ফেরেন নি। এখন চাকরী থেকে ফিরতে দেরী হয়ে যায়। সুধাময়ী একই বসেছিল। অমৃতকে দেখে বলে--কি হবে বাবা ? চারিদিকে গোলমাল চলেছে, উনিও ফেরেন নি। ওরা বাড়িতে এসে শাসিয়ে গেল। অমৃত মায়ের ভীতচকিত মুখের দিকে চাইল। সুধাময়ীর চােখের সামনে একটু আগেকার সেই দৃশ্যটা ফুটে ওঠে। মারমুখী একদল ছেলে এসে পাড়ায় হানা দিয়ে তছনছ করে গেছে। এখানের অনেক বাসিন্দা ভাড়াটাদের উপর ওদের রাগ ফেটে পড়েছিল। ওরা খুঁজছে তাদের প্রতিপক্ষকে { তাদের বাড়িতেও ঢুকেছিল পাইপগান—ছোরা-রড এইসব নিয়ে, শাসিয়ে গেছে সুধাময়ীকে তারা কঠিন স্বরে। --অশোক এখানে আসে ! কোথায় থাকে। সে ? সুধাময়ী জানে না তার খবর। ছেলেটা কোথায় গেছে—-কেমন আছে তাও জানে না। মায়ের মন এত কিছু সত্ত্বেও ছেলের জন্য চোখের জল ফেলে। সে বলেছিল। ᏕᏔᏍᏊ