পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৩৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


--জনি না। বাবা তার কোন খবর। ওই ছেলের দল তবু বিশ্বাস করে নি। বলে। ——মিথ্যে কথা। আমরা জানি সে কোথায় । যদি ধরে না দেন তাকেও পেলে শেষ করবাে। আর বাকীগুলোকেও—সুধাময়ী দেখেছিল অন্ধকারের সেই মানুষগুলোর চোখে-মুখে কি বীভৎস ছায়া মাখানো। তারা কারা তাও জানে না সে। অজানা ভয়ে শিউরে উঠেছে সুধাময়ী। অমৃতও শুনেছে তাদের হুঙ্কার। তাকেও ওরা রাস্তায় ধরেছিল। কিন্তু অশোকের কোন খবরই তারা জানে না, বাড়িতেও সে ছিল অবাঞ্ছিত একটি সন্তান একথা তাদের বলেও বোঝাতে পারবে না। তাই ওঁরা এসে এখানে হানা দিয়েছে। পথে ঘাটে ওরা এ বাড়ির মানুষদের ধরে ধরে শাসাচ্ছে। অমৃত ভাবনায় পড়ে। ও জানে না। এই হিংসার থেকে মুক্তির পথ কোনখানে। মা যেন ভয়ে কঁপিছে। এ বাড়ির সব তছনছ করে গেছে তারা । অমৃত বলে-ওরা আমাকেও সেকথা বলেছে মা পথে দাঁড় করিয়ে। --তাই নাকি? ওই এক ছেলের জন্য আমরা কি জুলে পুড়ে মরবো বাবা ? ঘরেবাইরে অশান্তি। সুধাময়ী ভাবনায় পড়ে। অমৃতের মনে হয় এই অঞ্চলগুলোর সাধারণ মানুষের জীবন বিষিয়ে উঠেছে। এখানে আলো নেই। এ যেন কোন অন্ধকারের অতলে হারিয়ে গেছে। সবাই। বাচার কোন আশ্বাস নেই। চাকরী-বাকরী নেই।-কোনরকমে। তবু একটা আশা নিয়ে খুঁকছিল হয়তো দিন বদলাবে তাদের। এরা সেই জীবনের টিকে থাকার প্রশ্নটাকেও মানতে চায় না। তাই শেষ করে দেবার ছলে খোজে। সুধাময়ী বলে-এখান থেকে চলে যাই বাবা অন্য কোনখানে। এখানে থাকারো কি করে ? অমৃত হাসল—কোথায় যাবে মা ? সবখানেই এমনি যন্ত্রণা। —তবে কি বাঁচার কোন ঠাই নেই? বেদনার্ত কণ্ঠে প্রশ্ন করে সুধাময়ী। তার চোখের সামনেও আজ বেঁচে থাকাটাই কঠিন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। S \9\a