পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৩৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অমৃতের কাছে এই প্রশ্ন নতুন নয়। সে দেখেছে তার চারিদিকে শুধু ধ্বংস আর অবক্ষয়কে। বন্ধুবান্ধবদের অনেকেই হতাশ হয়ে হয়ে মরীয়া হয়ে উঠেছে। সুদীপ্তর কথা মনে পড়ে। ভালো ছাত্র, কিন্তু কোথাও কোনো সুযোগ পায় নি। ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে হঠাৎ সুদীপ্ত আত্মহত্যা করেছিল ইলেকট্রিক ট্রেনের তলায় পড়ে। কিন্তু শেষকালে ওই আর্বতে ভেসে গেছে কোন আশ্রয় না পেয়ে। তার দিকে দিকেও এমনি ধূসর বিষগ্নতার ছায়া। বাড়িটায় অন্ধকার নেমেছে। বসন্তবাবু তখনও ফেরেন নি। রাস্তায় দু’একটা পুলিশের গাড়ি চলাচল করছে। তখনও এ বাড়ির মানুষগুলোর ভয় কাটে নি। ওরা ভয়ে সিটিয়ে রয়েছে। নিতুর মা লতিকার ঘরে কি যেন বলছে ফিসফিসিয়ে। টিনের বেড়ার ফাঁক দিয়ে কথাগুলো শোনা যায়, ওদের যেন শুনিয়ে শুনিয়েই বলছে নিত্যুর মা লতিকাকে। --বাড়িওয়ালাকে বলে ওই পাপগুলোকে তাড়াও বীেমা। না হলে আবার আসবে ওই দলবল। এবার আর রক্ষে রাখবে না। লতিকা বলে—এতদিন বলি নি। এইবার তাই বলতেই হবে। দূর হয়ে যাক ওরা। মেয়েটা তো ঘর থেকে বেরিয়ে গেছে।--ছেলেও অমনি গুন্ডা। কি সব গুণের ছেলেমেয়ে ? ওদের জন্য এইবার আমাদের মরতে হবে? বুড়োটা কোথায় কি তালে থাকে কে জানে ? সব কথাই শোনা যায়। অমৃত বুঝেছে সকলের চােখের সামনে ওদের পরিচয় আজ ক্লেদাক্ত। দুঃসহ মনে হয় কথাগুলো। সুধাময়ী, অমৃত চুপ করে ওই কথাগুলো শুনছে। তাদের বলার কিছুই নেই। আজি সব মিশিয়ে গেছে। অন্ধকারে। সুধাময়ী ভাবছে। ওই বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে তারা। যারা গেছে যাক, এইবার তারাও চলে যাবে। সুধাময়ী চিন্তিত মনে বলে। --তোর বাবা এখনও ফিরল না ? Sweba