পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৩৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অমৃতের ভয় হয়। তবু বলে সে। ---একবার দেখে আসবো ? আদিম অন্ধকারে ওরা সবাই হারিয়ে গেছে। সুধাময়ী বলে। —কোথায় যাবি এ সময় ? রাত্রি হলে উনি অফিসের গাড়িতে আসেন। হয়তো কাজে আটকে পড়েছেন। আসবেন। ওরা জাগর রাত্রির প্রহর গুণছে। তখনও ফেরে নি মানুষটা। সাবিত্রীও ভাবে নি। হঠাৎ এমনি একটা অন্ধকার জমাট দেওয়ালে এসে মাথা ঠেকবে তার। জীবনের পথে পথে এমনি বাধা। সেখানে নীতি বিবেক মনুষ্যত্বের কমনীয়তা এসে বাধা পায়। যে ওই মানবিক বৃত্তিগুলোকে পায়ে দলে পিষে চলার পথ করে নিতে পারে। সেইই অনেক কিছু পায়, সাবিত্রী সেই পথ নেবে কি-না তাই ভাবছে। আজ সামনে তার দুটাে পথই খোলা আছে। সে এই ভাঙনের মাঝেও আশাব আলো দেখেছিল। তার সামনে দিনগুলো অনেক উজ্জ্বল আর বর্ণময় হয়ে ওঠে। কাজলকে ফিরে পেয়েছে সে। সাবিত্রীর মনে তাই খুশীর জোয়ার উঠেছিল। হঠাৎ সুলেখাকে কাজলের বাড়িতে দেখে চমকে উঠেছিল। সাবিত্রী । সন্ধ্যার পর সুলেখাদির ওখানে ফিরছে সে। এখন ওই বাড়িতেই থাকে সাবিত্রী। আজ সন্ধ্যায় কাজলবাবুর ঘরে তাকে দেখেছিল সুলেখাদি। সবিত্রী লজ্জায় পড়েছিল খুবই, কিন্তু ক্রমশ সেই ভাবটাকে সহজ করে নিয়েছে মনে মনে। এ যেন তার কাছে একটা গৌরবেরই কথা। সে আজ গানের জগতে নাম করছে।--কাজলবাবুর মত শিল্পীর ভালোবাসা পেয়েছে। এতে তার লজ্জার বিন্দুমাত্র কিছু নেই। বাড়িতে ঢুকে একটু অবাক হয় সাবিত্রী। নিচের ঘরটা অন্ধকার। সুলেখাদির ঘরেও আলো জুলে নি। সারা বাড়িটাকে ঘিরে একটা বিবৰ্ণ শূন্যতার ছাপ ফুটে উঠেছে। অন্যদিন সুলেখার সর ওঠে বাড়িতে, আজ সব সুর স্তব্ধ হয়ে গেছে। সাবিত্রী একটু অবাক হয়। সুলেখাদি আজ গানের ক্লাশও নেয় নি। এই পরিবর্তনটা সাবিত্রীর চোখে পড়ে। তাই অবাক হয়েছে সে। সাবিত্রী বাগান পার হয়ে নিচের অন্ধকার ঘরখানা পার হয়ে কোনমতে ভিতরে এলো। এখানেও আলো জুলে নি। সাবিত্রী হাতড়ে হাতড়ে সুইচটা পেয়ে আলো Y\Str