পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৩৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জুলতেই এই ঝলক আলো আঁধারে যেন কঁাপিয়ে পড়ে। ওদিকে কাকে বসে থাকতে দেখে চাইল সাবিত্রী। সুলেখাদির ভারী দলায়। থমকে দাঁড়ালো সাবিত্রী। --আলো জেলে না। —সুলেখাদি এখানে বসে আছেন ? সাবিত্রী অবাক হয়। ভিতরের বারান্দায় একটা বাতি জুলছে। তারই একফালি আলো এসে পড়েছে সুলেখাদির মুখে। ওর মুখ-চোখ থমথমে। কণ্ঠস্বরও যেন অশুরুদ্ধ। --সুলেখাদি! চমকে ওঠে সাবিত্রী। ওকে এমনি ভাবে ভেঙে পড়তে কোনদিনই দেখে নি সে। সাবিত্রী কি যেন ভয়ে-ভাবনায় চকিতের জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। কাছে এসে সাবিত্রী ওকে সুধোলো। ” ---শরীর খারাপ নাকি ? সুলেখাদি। --না, না। সুলেখা ওকে দেখেছে। সাবিত্রী দাঁড়িয়ে আছে। সুলেখাদি বলে ওঠে।


কথাটা তোমাকে বলবো ভাবছিনাম, আজ সেটা তোমারও জানা দরকার সাবিস্ত্রী ।

সাবিত্রী ওর কণ্ঠস্বরে কি যেন বেদনা আর দৃঢ়তার সন্ধান পায়। আর সুলেখাদিকে সে নিজের দিদির মতই দেখে। তার জন্যই। সাবিত্রী আজ এইসব পেয়েছে। নামযশ-প্রতিষ্ঠা টাকাও। দয়া করে সে তাকে পথের ধুলো থেকে কুড়িয়ে প্রাসাদে এনে ঠাই দিয়েছিল। সাবিত্রী অনুমান করেছে যে সুলেখাদি তার এই সৌভাগ্যে খুশী নয়। কারণ বাইরের লোকজন—রেকডিং কেম্পানীর লোক ওই অনুষ্ঠানের কর্মকর্তারাও আসেন। তঁরা সুলেখাদির সামনে তাকে না ডেকে সাবিত্রীকেই অনুষ্ঠান করতে ডাকেন। সৃবিত্রী তাদের এড়াতে পারে নি। তারও শিল্পীমন এই আমন্ত্রণগুলোকে মেনে নিয়েছে। সাবিত্রী জানে সুলেখাদি এগুলো সহ্য করতে পারে না। এই অতৃপ্তি থেকেই সুলেখাদি তাকে ভুল বুঝেছে, আগেকার সেই সহজ মধুব সম্পর্কটাঃ ভাঙ্গন ধরেছে। কাজলবাবুর উপর সাবিত্রীর একটা নীরব দাবী আছে সেটা সাবিত্রী জানে। Σ\Οδο