পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৩৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সুলেখা ওর কথায় অবাক হয়। এতদিনের সাধনায় ও সিদ্ধিলাভ করে থেমে যাব তা ভাবতে পারে না। সুলেখা। সাবিত্রী কি অসহায় ক্ষোভে কাদছে। সুলেখা একটু অবাক হয়। তবু শুধোয় সে। —কি নিয়ে বেঁচে থাকবে সাবিত্ৰী ? সাবিত্রী কি ভাবছে। কদিন ধরে দেখছে সে একজনকে। কাজলবাবুর ওখানে সে নিজের একটা ঠাই পাবার দাবী রাখে। শিল্পীর এই হাহাকার্যময় স্বার্থপর জীবন থেকে সরে গিয়ে সে ওই ছন্নছাড়া একক নিঃসঙ্গ মানুষটিকে মেনে নিয়েই তার ঘরের কোণে নিজের স্বপ্ননীড় গড়ে তুলবে। ওই কোলাহলমুখর খ্যাতির জীবন সে চায় না। সাবিত্রী বলে। —-এ সব ছেড়ে একটি মানুষকে নিয়েই ঘর বাধবো সুলেখাদি। আমার জন্য গানের এই জগৎ নয়, ছোট্ট একটু ঘর-একটি আপনজনকে নিয়েই আমি খুশী থাকবো । সুলেখা দেখছে সাবিত্রীকে। ওর চোখেমুখে কি যেন সাস্তুনা আর পরম পাওয়ার আশ্বাসের ঔজ্বল্যে সুলেখা অবাক হয়। নিজের মনের কোণেও আজ আমনি ঘরের স্বপ্ন। সুলেখা হয়তো ভাবে যে তারও এইটুকু প্রয়োজন আছে, আর সেও তাই পেয়েছে। তাই জানায়। —হয়তো ওই ভালো সাবিত্রী। সুলেখাদি নিজের সেই ভাগ্যের কথাটাও জানাতে দ্বিধা করে না। বলে সে। —ঠিকই বলেছে সাবিত্রী। তাই আমরাও ঘর বাঁধাবো। সাবিত্রী ওর দিকে চাইল । সূলেখা বলে চলেছে। --তোমাকে কথাটা বলি নি সাবিত্রী, আমরা বিয়ে করেছি। কাজলবাবু আর আমি। রেজেক্ট্রী হয়ে গেছে। ভাবছি। এইবার চমকে ওঠে সাবিত্রী। S 8S