পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৪১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কোথায় যাবে জানে না। সাবিত্রী। লক্ষ্যভ্ৰষ্টের মত চলেছে সে পথ ধরে। নিজের সামান্য পাওয়ার মোহে সে সুলেখাদির জগতে এসে পড়েছিল। যার কাছে সে সব চেয়ে কৃতজ্ঞ সেই সুলেখাদির এতবড় সর্বনাশ সে করতে পারবে না। রাতের অন্ধকার পথে পথে থমথমে হয়ে আছে। তেমন লোক চলাচল নেই। সাবিত্রী হঠাৎ একটা গাড়ির হেড লাইট চোখে পড়তে থমকে দাঁড়ালো। জায়গাটা নির্জন। নিজেরও ভয় হয় সাবিত্রীর হঠাৎ কোন পথে এসে পড়েছে। সুলেখাদির ওখান থেকে বের হয়ে সাবিত্রী বাড়ির দিকে আসছিল, কোথাও যাবার ঠাই আর নেই। চোখের জল শুকিয়ে পাথর হয়ে গেছে কি হতাশায়। রাত কত জানে না। একলা পথ দিয়ে চলছিল সে। এতক্ষণে খেয়াল হয়। দুপাশের আলোগুলো নেভানো। আশেপাশে এখানে বাড়িগুলোও আধারে ঢাকা। কারা যেন ওই অন্ধকারে ওৎ পেতে রয়েছে। পথে লোক চলাচল নেই। হঠাৎ গাড়ির সামনে অন্ধকার ভেদ করে একদল কালো ছায়া এসে দাঁড়িয়ে ওই গাড়িটার পথ আটকেছে। ওদের চাপা গর্জন শোনা যায়। গাড়ি থেকে কাকে জোর করে ওরা টেনে নামাচ্ছে, ভয়ে শিউরে উঠেছে সাবিত্রী ওই দৃশ্য দেখে। বাসস্তবাবু অন্য দিনের মত সেদিনও গঙ্গার ধারে গেছেন পটলের জন্য মাছ আনতে। সন্ধ্যা হয়ে আসছে। গঙ্গার ধারে এদিকটায় কেমন নির্জনতা । গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। ওদিকে গঙ্গার বুকে একটা বিদেশী জাহাজে বাতি জুলছে। গাদাবোটগুলো দাঁড়িয়ে আছে নীেকা থেকে মাঝি নেমে এসে একটা ঝুড়িতে কতকগুলো ইলিশ মাছ তুলে দিতেই গাড়িটা স্টার্ট দিয়েছে। বাসস্তবাবু পিছনের সিটে বসে আছেন। মাছভর্তি ঝুড়িটা পায়ের কাছে নামানো। হঠাৎ আবছা অন্ধকারে একটা পুলিশ গাড়ির সাইরেন বেজে উঠতেই ড্রাইবারও গাড়িটার স্পিড বাড়িয়ে দিয়েছে। উল্কার বেগে ছুটে চলেছে গাড়িটা, বাসস্তবাবু চমকে ওঠেন। অন্ধকারে আগুনের ফুলকি দেখা যায় দূরে। S 8v)