পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৪২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গুলী করছে ওরা! তারা মাছ নিয়ে চলেছে মাত্র। পুলিশের গাড়ি তাদেরকে থামাবার জন্য চেষ্টা করেও পারে নি। তাই টায়ার লক্ষ্য করে গুলী ছুড়ছে। বসন্তবাবু ভয়ে শিউরে উঠে এদিকে মাথা নুইয়ে বলেন। -গাড়ি থামাও । ড্রাইভারের মুখটা কঠিন হয়ে ওঠে। বসন্তবাবুর কথায় গর্জে ওঠে সে-চুপ করে বসে থাকো বুড়ো ভাম। কি মাল পাচার করছে এতদিন জানো না ? পুলিশে ধরতে পারলে হাড় সেঁকে দেবে। বসন্তবাবু মাছের ঝুড়ির উপরই ছিটকে পড়বে ওই প্রচন্ড গতিবেগে, মাছের গায়ে হাত পড়তে একটু অবাক হয়। মাছের পেটগুলো কাটা তার মধ্যে রয়েছে সোনার বাট ।--অম্মফুট আর্তনাদ করে ওঠে বসস্তবাবু। আজ আর বুঝতে বাকী থাকে না পটল এসব মাছ নিয়ে কি করে। ওই সব বিচিত্র জায়গা থেকে বই-এর প্যাকেটগুলো নিয়ে আসে, তাতে কি দ্রব্য থাকে তাও বুঝতে পেরে শিউরে উঠেছে বাসস্তবাবু। হাঁপাচ্ছে। মনে হয় এইবার পুলিশের হাতে ধরা পড়তে হবে, আর পটলও সব দোষ দায়িত্ব তার মাথায় চাপিয়ে দিয়ে বেমালুম গা ঢাকা দেবে। বসন্তবাবুর সারা শরীর ঘামছে। চোখ বুজে বসে আছেন। মনে হয় যে কোন মুহূর্তে ধরা পড়তে হবে। খবরের কাগজে বের হবে ভূতপূর্ব বিপ্লবী বসন্ত মজুমদারের বর্তমানের এই নোংরা কাহিনী। এর চেয়ে মরাই ভালো । মনে হয় এই চলন্ত গাড়ি থেকে দরজাটা খুলে লাফ দিয়ে পড়বেন পথের উপর, শেষ হয়ে যাক সবকিছু। কিন্তু তা পারেন না। গাড়িটা বড় রাস্তা ছেড়ে এ গলি সে গলি দিয়ে অন্ধকারে এগিয়ে চলেছে। পুলিশের বড় গাড়ি তাদের আর নাগাল পায় নি। বসন্তবাবু যেন স্বপ্ন দেখছেন। S 88