পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পার্ক সার্কাসের ট্রামের দেখা নেই। অমৃত বিরক্ত হয়ে ওঠে। সকালে বাড়ি থেকে বের হয়েছে এখনও ফিরতে পারে নি। কোনো কাজও তেমন হয়নি। এদিকের কোন অফিসে এক ভদ্রলোক দেখা করতে বলেছিলেন তাকে, অমৃত গিয়ে তার দেখা পায় নি। বোধহয় ছুটিতে গেছেন তিনি। র্তার অফিসে একজন লোক নেওয়ার সম্ভাবনা আছে। তারও কোনো সংবাদ পায় নি। হতাশ হয়ে ফিরেছে অমৃত। খিদেও লেগেছে। ওই অনুভূতিটা ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠছে। আর ওই জ্বালাটা এতই বিশ্ৰী যে মনের সব চিস্তা-ভাবনা কমনীয়তাকে কঠিন করে তোলে। অমৃত এতদিন ধরে সেই যন্ত্রণাকে ভুলে থেকেছে, তবু সেটা তাকে সহজ হতে বাধা দেয়। তার অজানতেই অমৃতের মনকে, মুখের ভাবটাকেও শক্ত করে তোলে ক্ষুধার জুলাটা। ট্রাম আসছে। এতক্ষণ পরে। অমৃত উঠে পড়ে দেখে সেই মেয়েটি উঠেছে একই ট্রামে। মেয়েটি অমৃতকে এই ট্রামে দেখে চাইল তার দিকে। কালো চশমার আবরণে ঢাকা চোখে যে কাঠিন্য আর বিরক্তি ফুটে উঠেছে সেটা অবশ্য অমৃত টের পায়নি। ধর্মতলা ছাড়িয়ে চলেছে ট্রামটা । কনডাক্টর এসে টিকিট টাইতেই রাত্রি চমকে ওঠে ব্যাগে হাত দিয়ে। এ-কোেণ ও-কোণ খুঁজতে থাকে, তার ছোট পার্সটার সন্ধান মেলে না। তেমন বেশী কিছুটাকা-পয়সা ছিল না, কিন্তু এই মুহুর্তে আঠারোটা পয়সার তার খুবই দরকার। রাত্রির সারা গা যত ঘামছে, ততই হস্তদন্ত হয়ে হাতড়াচ্ছে ব্যাগটা। কিন্তু পার্সটার পাত্তা নেই। বোধহয় কাউন্টারে তাড়াতাড়ি কাজ সেরে ফেরবার জন্য এগিয়ে গিয়ে কার্ড বের করার সময় পাসটাও খোলা ব্যাগ থেকে কোনমতে বের হয়ে পড়ে গেছে খেয়াল করে নি। ওই গোলমালের মধ্যে। রাত্রি বুঝতে পারে ট্রামের অনেক যাত্রীই তার দিকে কৌতুহলভারে চেয়ে আছে। অনেকের চোখে-মুখে বেশ মজা বোধ করার নিষ্ঠুর আনন্দ। কে ওপাশ থেকে মন্তব্য করে কণ্ডাক্টারকে। —যেতে দাও না ভাই, দেখছে না পলাশফুল। আসলে কিছুই নেই। --রাত্রি রাগে অপমানে যেন মাটিতে মিশিয়ে যাবে ওদের কথায় । ጙffኛ 3ቛ qቆÍ—$ SA