পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৫১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কাজল বলে । —এভাবে থেমে যাবে না তুমি, হেরে যাবে না। আজ তোমার নাম হয়েছে। এত প্রোগ্রাম--রেকর্ডিং-এত কাজ এসব ছেড়ে এইভাবে ফুরিয়ে যাবে? সাবিত্রীও মনে মনে তৈরী হয়েছে। এই পরাজয়কে মেনে নিয়ে ফিরে আসবে कीं । তার সুরের জগতে সে নিজের সৃষ্টিকে নিয়েই বেঁচে থাকবে। সাবিত্রী বলে,-এ ভাবে ফুরিয়ে যেতে চাই না, আমিও বঁচিতে চাই! কাজল ফিরে গেছে। সাবিত্রীর বোঝাটা যেন অনেক হালকা হয়ে যায়। ও বলে মাকে। ---এখান থেকে চলেই যাবো মা অন্য কোন বাড়িতে। সুধাময়ী খুশী হয়। —-তাই চল মা। সাবিত্রী ভাবছে তার এক ছাত্রীর বাবার ফ্ল্যাট বাড়ি আছে মনোহরপুকুরের ওদিকে। সেখানেই চলে যাবে। নিজের কাজে আবার ডুবে যাবে সে। সাবিত্রী বলে। —কালই কথাবার্তা বলে আসবো মা। এবাড়ির কাজ-কম্মো চুকিয়ে চলে যাবো \3२न् । দরজাটা খোলাই ছিল। বাইরে অন্ধকার নেমেছে। হঠাৎ কার সাবধানী পায়ের শব্দে চমকে ওঠে সুধাময়ী। বারান্দায় আলোটা নেভানো। তবু অন্ধকারে ওই পায়ের শব্দ মায়ের কান এড়ায় না। সাবিত্রীও ফিরে চাইল। অন্ধকার থেকে ঘরে ঢুকেছে৷ অশোক । মুখে গালে দাড়ি গোফের জঙ্গল! দুচোখ যেন জুলছে ওর। প্যান্টের উপর জামাটা ঝুলছে। একটা হাত ওই জামার নীচে প্যান্টের পকেটে কি একটা বস্তুকে ধরে আছে। দুচোখে বন্য উদভ্ৰান্ত চাহনি ফুটে ওঠে। মা এগিয়ে গিয়ে অশোককে জড়িয়ে ধরে কঁদতে থাকে। অশোকের ভালো লাগে না। এই সর কান্না-অসহায় শোক । ও মাকে থামাবার চেষ্টা করে। እ (፩ \5)