পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৫২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


—চুপ কর মা। কান্নার সময় এ নয়। আমি সব জানি ওবা এবাড়িতে এসে তোমাদের শাসিয়ে গেছে-পথে দাদাকেও ধরেছিল। আর ওই বুড়ো মানুষটাকে কে খুন করিয়েছে তাও জেনেছি। সাবিত্রী চমকে ওঠে— জানিস তুই ? —হাঁ! অনেক অন্ধকারের মানুষ আজ নিজেদের স্বার্থে এইসব কাজ করাচ্ছে। সব আন্দোলন সব চেষ্টাকে ওরা বার বার ব্যর্থ করে দিয়েছে। তারই জবাব ওদের দিতে হবে। মা ওকে জড়িয়ে ধরে রাখতে চায়। ব্যাকুলকণ্ঠে বলে। – তুই আর যাসনে বাবা। যে ভাবে হােক দিন আমাদের চলবে। হাসল অশোক । ওই দাড়িভরা মুখখানায় হয়তো বিষগ্নতা ফুটে ওঠে। ওর কাছে ঘরের কোনো আশ্বাস নেই। মায়ের স্নেহ ভালোবাসা---কারো নিবিড় স্পর্শ এসব ব্যর্থ হয়ে গেছে। অশোক বলে,---এভাবে বাঁচতে চাই না মা । তাই এই হালটাকে বদলাবার জন্যই আমরা হয়তো ফুরিয়ে যাবো। কে ? অন্ধকারে কে আসছে। নিমেষের মধ্যে অশোক একটা কোণে দাঁড়িয়েছে হাতে ওর ঝকঝকে রিভলবার। সুধাময়ী আর্তনাদ করে ওঠে— অশোক অমৃত আসছে। -ff অশোক বদলে যায়। রিভলবারটা পকেটে পুরে দাদার দিকে চাইল বন্য উদভ্ৰান্ত চাহনি মেলে। অমৃত ওকে দেখছে। অশোক এগিয়ে আসে। —ঘাবড়ে গেছিস না রে ? আজি এসেছিলাম। একটা কথা জানাতে। অমৃত ওর দিকে চাইল। অশোক যেন অনেক বড় হয়ে গেছে। কেমন অচেনা মনে হয় ও কে { অশোক বলে । —দ্যাট ওলন্ড ম্যানকে আজ শ্রদ্ধা করি দাদা, বাবা বলে নয়, সত্যিকার সৎ লোক ছিল ও। অনেক টাকার মোহ ছেড়ে বাবা পটলের মুখের উপর দিয়ে বের হয়ে এসেছিল। আর হঠাৎ সেই সত্যিকার মানুষটাকে দেখে চমকে উঠেছিল। পটল-—তাই তাকেও তার দাম দিয়ে যেতে হল প্ৰাণ দিয়ে। চলি! অমৃত ওর দিকে চাইল স্তব্ধ বিস্মিত চাহনি মেলে। > (28