পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৫৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সুধাময়ী বলে। ---চলে যাবি ? --থাকতে তো আসি নি মা। অনেক কাজ বাকি। তাই যেতে হবে। যদি আর না ফিরি দুঃখ করো না। জানবে এভাবে বাঁচতে চাইনি বলেই এই দুনিয়ার নাকটায় একটা টক্কর লাগিয়ে ফেীত হয়ে গেলাম। চলি রে সাবিত্রী। থেমে যাবি না, লড়ে যাবি, বুঝলি ? অন্ধকারে আবার মিলিয়ে গেল অশোক। ক্ষণিকের জন্য এবাড়িতে এসে আধমরা মানুষগুলোকে আজ কি প্ৰাণ প্রাচুর্যে ভরিয়ে দিয়ে গেল। সাবিত্রী কি ভাবছে। তারও করার কিছু আছে। এ জীবনকে সেও কি পূর্ণতায় ভরিয়ে তুলতে পারে। এত সহজে সেও হার মানবে না। জীবন তবু কোথাও দাডিয়ে নেই। সেই মানুষটার হারানোর বেদনাকে তারা ভুলেছে। ওই মৃত্যুটার কোন রহস্যই উদঘাটিত হয় নি। শহরের অনেক মানুষই এমনি করে প্রাণ হারায়। বাসস্তবাবুও তেমনি করেই আর একটি মৃত্যুর সংখ্যা বাড়িয়েছেন S নতুন বাড়িতে এসে গোছগাছ কলো নিয়েছে ওরা। সুধাময়ী স্তব্ধ চাহনি মেলে পথের দিকে চেয়ে থাকে। অমৃত সাবিত্রী। তবু আবার স্বাভাবিকভাবেই সব ক্ষয়-ক্ষতিকে মেনে নিয়েছে। রাত নেমেছে ৷ সাবিত্রী রেওয়াজ করছে। এখানের পরিবেশে এসে সাবিত্রী আবার নিজেকে ফিরে পেয়েছে। সুধাময়ীও নিশ্চিন্ত হয়েছে। অভাবের নগ্ন জ্বালা এখানে নেই। অমৃতও চাকরী করছে। সুধাময়ীর দিন কাটে না একা একা। এখানে তিলজলার সেই পাইকারী বাড়ির লোকজনের মত মেলামেশা নেই। একক এরা-নিঃসঙ্গ। সাবিত্রী ও গানের ক্লাস-রেকর্ডিং-না হয় অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত থাকে। টাকা ও আনে সত্যি। তবু সুধাময়ী চেয়েছিল ওরা সুখী হােক। সাবিত্রীও জানে মায়ের ইচ্ছেটা। কিন্তু সেইই বলে। ---ওসব ভেবো না মা। আমার কাজ নিয়ে বেশ আছি। সুধাময়ী অবাক হয়—কি জানি মা। S. G. G.