পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৫৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সে নয়! এসেছে একটি ভদ্রলোক। সাহেবী পোষাক পরা, মুখখানা তোলা হাঁড়ির মত। অমৃতকে দেখে কঠিন কণ্ঠে প্রশ্ন করে। —কাকে চাই ? অচেনা লোককে দেখে চমকে ওঠে অমৃত। ভদ্রলোককে এখানে দেখে নি। তবু বলে সে । --আসিতবাবুর সঙ্গে একটু দেখা করবো। তিনি আছেন ? ভদ্রলোক বলে—অসিতবাবু? মানে এখানের আগেকার ভাড়াটো? সেই বুড়োটা ? —আজ্ঞে। অমৃত ঘাড় নাড়ে। দরজার ওপাশ থেকে যেন এখুনি রাত্রি বের হয়ে আসবে তার গলা শুনে। ভদ্রলোক বলেন শুকনো গলায়। —সরি। তিনি মাস কয়েক আগেই মারা গেছেন। ওদের আর কেউ এখানে থাকে না। ওরা চলে গেছে, এ বাড়িতে আমি এসেছি। এখন। চমকে ওঠে অমৃত ও শুধালো। --রাত্রি! ওর মেয়ে, তিনি কোথায় ? -शौनि ना। ভদ্রলোক ওর মুখের উপর দরজাটা বন্ধ করে দিলেন। অমৃত তখনও দাঁড়িয়ে আছে। ওর সারা শরীরে-মনে একটা চাবুকের ঘা পড়েছে। অসহায় সে—মুখ বুজে সেই আঘাতটা সহ্য করে নেমে এল । রাত্রি কোথায় হারিয়ে গেছে। তবু রাত্রির কথা শুনে মনে পড়ে। কোথায় সে তা জানে না। মনে হয় এখনও সন্ধ্যার অন্ধকারে কোন হােটেলে বারে বসে আছে এক পথহারা-সব হারানো একটি মেয়ে। নেশায় সে নিজেকে ভুলতে চায়। তারা হারিয়ে যায়, ঘরের বাঁধন নেই, ভালোনাসা নেই। কোন কক্ষচ্যুত গ্রহের মত মহাশূন্যে তারা জালাময় ব্যর্থ অস্তিত্ব নিয়ে প্রদক্ষিণ করে। ওর খরচের খাতায় শুধু দাগ পড়ে। এখানে সবাই শুধু হারিয়ে যায়। জীবনের অঙ্কগুলো মেলে না। ব্যর্থ জীবনের বোঝা বয়ে চলেছে। ওরা সবাই অমৃত-সাবিত্রীসুধাময়ী সকলেই। তবু বাঁচতে হয়, বাঁচার অভিনয় করে তারা। অফিসের কাজে সেদিন অমৃত চৌরঙ্গীপাড়ার নামকরা কোন হােটেলে গেছল। পুরু কর্পেট পাতা পথ, ওদিকে শ্বেতপাথরের ঝকঝকে ওয়েটিং হল। কালো ডানালোপিলোর গদি অ্যািটন সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে তাদের কর্মকর্তার জন্য অপেক্ষা করছে, ওপাশে সবুজ ঘাস ঢাকা লনমত, পামগাছগুলো বাতাসে মাথা নাড়ে প্রাণের S (፩ ዓ