পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হঠাৎ ওপাশ থেকে ট্রাম স্টপেজে দাঁড়ানো, এমপ্লয়মেণ্ট এক্সচেঞ্জে দেখা ছেলেটি কণ্ডাক্টারকে বলে । —দুটাে আঠারো পয়সার টিকিট দিন। একটা ওখানেঅর্থাৎ ভদ্রলোক এভাবে কথাটা বললেন তাতে মনে হয় দু’জনে যেন একসঙ্গেই চলেছে, ওরই টিকিট কাটার কথা। কণ্ডাক্টারই ভুল করে এখানে ওই ভদ্রমহিলাকে বিরক্ত করেছে টিকিট চেয়ে । কণ্ডাক্টর পয়সা নিয়ে টিকিট দিল অমৃতকে। অমৃত মেয়েটির দিকে চাইবার চেষ্টাও করল না। ওদিকে মুখ ফিরিয়ে টিকিট দুটাে নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। আগেকার মতই। ব্যাপারটা স্বাভাবিক, দর্শকদের অনেকেই হতাশ হয়েছে। ব্যাপারটাতে অবাক হয়েছে রাত্রি। তবু চুপ করে থাকে চলন্ত ট্রামে। সকাল থেকেই মন-মেজাজ ভালো নেই রাত্রির। বাড়ির সমস্যাগুলো আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পুরোনো পরিচয়ের জের ধরে একটা খবর পেয়েছিল-- যে কোন অফিসে চাকরী একটা হতে পারে। তারই জন্য কার্ডটা রিনিউ করে নাম্বারটা পাঠাতে হবে। এই ব্যাপারে গেছিল। রাত্রি, সেখানেও দেখেছে ওদের ওই ব্যবহার। তারপর ট্রামে এই ঘটনাটায় তার মন বিষিয়ে উঠেছে। ওই ভদ্রলোক যেন তাকে ইচ্ছে করে উপকার করার জন্যই সব জেনে একই ট্রামে উঠেছে তার পিছু পিছু। পার্ক সার্কাস এর কাছে আসতেই অমৃত নামবার জন্য এগোচ্ছে। এখান থেকে নেমে বেশ খানিকটা হাঁটতে হবে তাকে রেলব্রীজ পার হয়ে তবে বাড়ি পৌছবে। বেশ খানিকটা পথ । দুপুরের রোদ বেড়ে উঠেছে। পার্কের রেইনট্রি গাছের নীচে ছায়া-আলোর আঁকিবুকি। পাখীগুলো ক্লান্ত হয়ে উড়ে এস জিরুচ্ছে। ঘাসের উপর গামছা পেতে ছায়ার ঠাণ্ডা ভাবটা তারিয়ে তারিয়ে অনুভব করে ক্লাস্ত কিছু মানুষ। চারিদিকে ঢিলেঢালা চুপচাপ ভাবটা ফুটে ওঠে। অমৃত ট্রাম থেকে নেমে ওই পথের দিকে এগিয়ে চলেছে, হঠাৎ পিছনে কার ডাক শুনে দাঁড়ালো। একটু অবাক হয়েছে সে —সেই মেয়েটিও ট্রাম থেকে এখানেই নেমে পড়েছে আর তাকেই দাঁড়াতে বলছে। কি ভেবে দাঁড়ালো অমৃত। মেয়েটি এগিয়ে अनि ! Str