পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


--তাই নাকি! তাহলে আসুন না একদিন সকালে। এই আমার ঠিকানা। একটুকরো কাগজে ঠিকানা লিখে দিল রাত্রি। অমৃত অবাক হয় ওর সাহস দেখে। তাই ফস করে বলে। --আপনার সাহস কম নয়তো ? -কেন ? হালকা সুরে সুধালো রাত্রি। ওর মুখের জড়তা কেটে গেছে এখন। অমৃত বলে-চেনা নেই, জানা নেই। একজন কে-না-কে তাকে বাড়ির ঠিকানা দিলেন ? রাত্রির মুখে মিষ্টি হাসির আভাস বিবৰ্ণ মেঘের আড়ালে এক ফালি চাঁদের আলোর আভার মত ফুটে ওঠে। বলে-মেয়েরা একটা হিসেবে বোধহয় ভুল করে না। অমৃতও হাসছে। ওর কথায়। দু'জনে হেঁটেই পথটুকু পার হয়ে চলেছে। পার্কের গা ঘেসে পথ। দু’দিকে গাছগাছালির ছায়া ছায়া ভাব এই দুপুরের রুক্ষ-তাপ্ত রোদের নিঃস্বতাকে স্নিগ্ধতার দক্ষিণ্যে মনোরম করে তুলেছে। অমৃতের মনে হয় এই ক্ষণিক পথচলাটুকু অনেক তৃপ্তির। অমৃতের দেহের অণুপরমাণুতে তখনও ক্ষুধার জৈবিক তাড়না রয়েছে। স্নান হয় নি। সামনে চাকরী-বাকরীরও আশা তেমন কিছু নেই, একতলা টিনের বাড়িটায় তার জন্য জমে আছে অসন্তোষ, তবু এই ক্ষণিক পথচলা ছায়া ছায়া স্নিগ্ধতার স্পর্শ ওই মেয়েটির সান্নিধ্য একটু ক্ষণের জন্য মনকে হয়তো সজীব করে তোলে। অমৃত যেন নোতুন কি পেয়েছে। বড় রাস্তার ধারে এসে এদের পথ বেঁকে গোল দু’দিকে। অমৃত বলে-চলি । রাত্ৰি দাঁড়িয়েছে। চারদিকে রোদের উত্তাপ। তবু মনের রমনীয়তা সেই জ্বালােকর পরিবেশকে ক্ষণিক স্নিগ্ধতায় ভরে দিয়েছে। রাত্রি বলে---সময় পেলে আসবেন কিন্তু। পিচগলা রাস্তা দিয়ে চড়াই ভেঙে রেলব্রিজে উঠছে অমৃত, জীবনের পথের মতই So