পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এ পথ বন্ধুর রৌদ্রদগ্ধ আর পূতিগন্ধময়। বাতাসে বন্দেলের দিককার ট্যানারির চামড়া পচার গন্ধ ভেসে আসে। সেই গন্ধটা ওদের মনেও বাসা বেঁধেছে। উত্তপ্ত পূতিগন্ধময় আকাশ-বাতাস। তবু কি যেন স্বপ্ন দেখে সে। হাসি আসে অমৃতের। পথে কি গোলামাল শুনে অমৃত দাঁড়ালো পথের একপাশে। কারা এই রোদে ফেস্ট্রিন-ব্যানার পোস্টার নিয়ে শোভাযাত্রা করে চলেছে পরম উৎসাহে। কোথায় কোন কারখানা বন্ধ হয়েছে তাদের জন্য এরা কলকাতার এই প্রাপ্ত থেকে জমায়েত হতে চলেছে। ময়দানে বিরাট জনসভা হবে তাই দিক-দিগন্তর থেকে চলেছে মানুষ, এরাও চলেছে। ওই রোদে দল বেঁধে স্লোগান দিতে দিতে। অশোককে দেখেছে অমৃত ওই মিছিলের ভিড়ে। ছেলেমেয়ে-বয়স্ক লোকজন, এদিককার তাবৎ বস্তির মেয়েছেলেকে নিয়ে চলেছে তারা । অধিকাংশ ওই মানুষগুলো জানে না কেন—কোথায় চলেছে তারা। গোবর্ধনবাবুর গাড়িটাকেও দেখা গেল, কী জন তার সঙ্গে গিয়ে কথা বলে কি নির্দেশ নিয়ে আবার জোর গলায় স্লোগান দিতে থাকে। কলরব উঠছে। ওরা পথ জুড়ে এগিয়ে চলেছে কি উৎসাহে। জনতার দরদে তারা কলকণ্ঠে কলরব তুলে চলেছে। রোদের তাপে অশোক ঘামিছে—তারাও উৎসাহ কম নেই। পায়েব স্যাণ্ডেলটা ক্ষয়ে গেছে। ময়লা পাঞ্জাবী ঘামে বিবৰ্ণ, শীর্ণ মুখে চােখে কি উত্তেজনা ফুটে ওঠে। হাতটা শূন্যে তুলে সে চীৎকার করে স্লোগান দিচ্ছে। অমৃত অবাক হয়েছে। অশোক.কলেজেও যায় নি, পরীক্ষা নাকি সামনে। আজ অমৃত ওকে বলেছিল কলেজে গিয়ে পরীক্ষার খবর আনতে কিন্তু তা যায় নি। ওই সব দলে মিশে হঠাৎ অশোক যেন কি একটা নেতৃত্বের সন্ধান পেয়েছে। তাই নিয়ে ७ श्रृंयो। অথচ অমৃত জানে কতো কষ্টে অশোকের ফিস-এর টাকা, কলেজের বাকী মাইনের টাকা সে জোগাড় করেছে। এখনও সেই ছাত্রের বাবার কাছে হাত পাততে পারে নি অমৃত। তবু ভদ্রলোক টাকাটা আগাম দিয়ে মুখরক্ষণ করেছিল। নিজেকে অনেক ছোট করেছিল অমৃত। কিন্তু কেন ? কি তার সার্থকতা তা বুঝতে পারে না অমৃত। তার সব সদিচ্ছাকেই পায়ের নীচে মাড়িয়ে দিতে চায় অশোক। ওর সম্বন্ধে অশোকের ধারণা সম্পূর্ণ অন্য রকম, আর তাতে যে শ্রদ্ধা-ভালবাসার কিছুমাত্র নেই সেটাও অমৃতের অজানা নয়। ૨:S