পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৩০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বৈচিত্র্য জমে আছে। ও মৌন মূক হয়ে শুনছে। এইসব কথাগুলো ? দেখেছে সেই নাটকগুলোকে। একদিন হয়তো জেগে উঠবে। আর প্রচণ্ড রাগে ফুসে উঠবে—মিথ্যার পর মিথ্যা সাজানো বাক্যের পুঞ্জীভূত উত্তাপে ফেটে পড়বে খান-খান হয়ে ওই আকাশছোঁয়া মিনারটা। ——মাস্টারমশাই। মাস্টারমশাই না। কার ডাকে চমকে ওঠেন বসন্তবাবু। ওটা তার অনেক দিনের হারিয়ে যাওয়া নাম। বিক্রমপুর পরগণার পল্লীসবুজের স্নিগ্ধতার মাঝে ভিজে ঘাসফুলের গন্ধমাখা স্মৃতিজড়ানো একটি মুহূর্ত সহসা সজীব হয়ে ওঠে এই নিষ্ঠুর লোকরণ্য মহানগরীর হৃদয়হীন কাঠিন্যের মাঝে! তাই সচকিত হয়ে ফিরে চাইলেন বসস্তবাবু, এখানে ওই হারানো পরিচয়ে কে যেন তাকে ডাকছে। স্বপ্ন দেখছেন তিনি না এটা বাস্তব সত্য, তাই অবাক হয়ে দেখছেন বাসস্তবাবু! ওপাশে একটা ক্রিমকালার এ্যামবাসাডারের দরজা খুলে বের হয়ে আসছে একটি তরুণ। বলিষ্ঠ চেহারা; কপালের কাছে একটা কাঁটার চিহ্ন। ও কাছে এসে এসে শুধোলো বাসস্তবাবুকে হালকা স্বরে। —চিনতে পারছেন স্যার? আমি পটল! দীঘির পাড়ের-— প্ৰণাম করার মত একটু ভঙ্গীতে মাথাও নোয়ালো। বসন্তবাবু এতক্ষণ অন্য জগতের বেদনাদায়ক চিস্তার গহনে তলিয়ে গেছলেন। স্মৃতিশক্তির ধারও কমে আসছে। তবু সব কেমন আবছা ভেসে আসে। ছাত্রদের ভিড় কলরবটা স্পষ্ট হয়ে ফুটে ওঠে। মনের সামনে। এইবার যেন চেনা চেনা ঠেকে। হঠাৎ মনে পড়ে সেবার ফুটবল খেলার সময় ওই ছেলেটার কপালে চোট লেগেছিল স্কুলের মাঠে। তিনিই ওকে তুলে আনেন ডাক্তারখানায়। সেদিনের ছেলেটা আজ একটি সুন্দর যুবকে পরিণত হয়েছে, পরনে দামী সুট। চোকেমুখে উচ্ছলতা। বসন্তবাবু চিনেছেন ওকে, অনেক খুশীতে তাই বলে ওঠেন। -পটলা! দীঘির পাড়ে মিত্তিদের বাড়ির পটল না ? -হ্যা স্যার। লিকলিকে পটলা আজ পুরোদস্তুর সাহেব সেজে কলকাতার রাস্তায় গাড়ি হাঁকাচ্ছে। অথচ এই মিত্তিরদের বাড়ির হাল দেখেছিলেন তিনি তখন। পটলকে ধরে WS