পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৩৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তীক্ষ বুদ্ধি দিয়ে বুঝেছে যে সেখানে কোনো কাজই হয় নি। বোধহয় রজনীবাবু ওকে পাত্তাই দেন নি। বসন্তবাবুর বিবৰ্ণ মুখের দিকে চেয়ে সেটা বুঝেছে। তবু যেন নিষ্ঠুর ভাবেই পটল বলে। —তাহলে একটা গতি-ব্যবস্থা কিছু হবে? অমৃতকে বলুন না, ওঁর সঙ্গে দেখা করতে। উনি চেষ্টা করলে কিছু করে দিতে পারবেন। বসস্তবাবু বিবৰ্ণ মুখে জানাবার চেষ্টা করেন। সত্যটাকে গোপন রেখে। --দেখি, তাই বলে। গাড়িটা গাছ-গাছালির সবুজ ছায়া অন্ধকারভরা নির্জন রাস্তার ধারে একটা বাড়ির সীমানায় ঢুকলো। গেটে আলো জুলছে। কঁকরঢিালা পথ, একদিকে সবুজ ঘাস-ঢাকা লনের পারে বাড়িটার নীচে এসে থামল। বাসস্তবাবু চারিদিকে চেয়ে দেখেন বিস্মিত চাহনি মেলে। পটল বলে। --আসুন মাস্টারমশাই, ভিতরে আসুন। একটু চায়ের ব্যবস্থা করতে বলি। বসন্তবাবু ড্রয়িংরুমে ঢুকে অবাক হয়ে দেখছেন। হঠাৎ বসন্তবাবুর খেয়াল হয়। তিনি বলেন। ওদিকে টুইশানিতে যেতে হবে বাবা বেশী দেরী হলে মুস্কিল হবে। পটল বলে। এখান থেকে গাড়ি পৌঁছে দেবে আপনাকে । ভয় নেই। হঠাৎ প্রশ্ন করে পটল। কতো পান। এখানে মাস্টারমশাই ? ওই সব টুইশানি করে। বসস্তবাবু ওর প্রশ্নে একটু হকচকিয়ে যান। কি ভেবে জানান। -চল্লিশ টাকা দেয় ওরা । বেয়ারা এর মধ্যে দামী কফিসেটে ঢাকনা দিয়ে কফিপট এনে হাজির করেছে। প্লেটে সাজানো রয়েছে দুটাে বড় সন্দেশ। কিছু ক্যাজুনােট। —নিন, মাস্টারমশাই। বসস্তবাবুর খিদেও পেয়েছিল। বৈকালে টিফিন জোটে না। বড়জোর এককাপ জলো সস্তা গন্ধওয়ালা ভ্যাপস চা নামক তরল পদার্থ গিলে ছাত্র পড়াতে বের হন বাড়ি থেকে। আঁজ দুপুরে একমুঠো কড়াকড়ে ভাত আর ওই কুমড়োর ঘাট খেয়ে ঘোরাঘুরি wd