পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৩৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কৰেছেন। খিদেটা তীব্র হয়ে উঠছে। তার চোখে মুখে ফুটে উঠেছে সেই লালসা আর বুভুক্ষর ছায়া। পটলের কাছে ওটা খুব চেনা। এইটুকু বুভুক্ষকে নিয়ে তার বেসাতি। পটল দেখছে ওই মানুষটাকে। বসন্তবাবু সন্দেশটা গোগ্রাসে গিলছেন। সাবিত্রী সেলাই-এবা স্কুলে এসে দরজা-জানালা খুলে কুঁজোতে জল পুরে কাজ শুরু করে। গার্লস স্কুলের ওপাশে ক খানা ঘর নিয়ে সেলাই-এর ক্লাশ আর গানের ক্লাশ বসে উপরের তলায় । সাবিত্রী বড়দিদিমণিকে ধরে-করে কোনমতে এই কাজটা পেয়েছে। তবু মাস গেলে কিছু টাকা মাইনে পায়। নিজের হাতখরচটা শাড়ি-জমাটাও কিনতে পারে। তাছাড়া বাড়ির যা অবস্থা তাতে বসে খাওয়া চলে না। তার মনেও এককালে আশা ছিল গান শিখবে। আগেকার দিনগুলোর কথা মনে পড়ে। এখন ক্লাশ চালু হয় নি। ঘর জাঁট দিয়ে যায় জমাদার। সাবিত্রীর তদারকিতে সে হারমোনিয়াম, তবলা-তানপুরা বের করে রাখে। নীচে সেলাই শিক্ষালয়ের কাজ শুরু হয়েছে। সাবিত্রী এই ফাকে উপরের ঘরে এসে ওই যন্ত্রগুলোর দিকে চেয়ে থাকে। মাঝে মাঝে হারমোনিয়ামে সুর তোলে। ওই সূরটা যেন তার চেনা। কৈশোর থেকে যৌবনের সন্ধিক্ষণে ওই সুর হঠাৎ তার মন থেকে কি বেদনায় হারিয়ে গেছে। আর একজনের কথা মনে পড়ে। কাজল।। আজ সে নামকরা গাইয়ে। একদিন অতীতে কাজল ছিল ওদের ওই বাড়িটায়। কাজলই বলতো। ওকে। —সুন্দর গলা তোমার। --ছাই! সাবিত্রী মনে মনে খুশী হলেও মুখে সে ভাবটা আনতো না। কাজল গাইতো। সুরাটা এখনও ভোলে নি সে }