পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৪৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সেই বাঘা টেরারিস্টেরও বুক কঁািপতো। বুঝলে ? সেবার রংপুর জেলার সব আন্দোলনকে এই দত্তসাহেবই। ঠাণ্ডা করে দিয়েছিলেন। অমৃতের মনে হয়। ভদ্রলোকের মনে অতীতের ছবিটাই আজও সত্য হয়ে আছে, তার কারণও ওর জানা হয়ে গেছে। অর্থাৎ বর্তমানের কোন উজ্জ্বল আশা তার মনের কোণে কোথাও জেগে নেই। বর্তমানে তিনি কোনো আশ্বাসই পান নি। অমৃতও দেখেছে রাত্রির অবস্থােটা। না হলে চাকরীর জন্যে ওকে বের হতে হতো না । ভদ্রলোক আজ হতাশ হয়েছেন বর্তমান আর ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে। বর্তমানে যা আছে তা অন্ধকারের নিবিড় ছায়া মাত্র। তাই বর্তমানের থেকে অতীতের দিনগুলোর স্মৃতিই তার মনে ঠাই পেয়েছে। রাত্ৰি অমৃতের দিকে চাইল। রাত্রির নিজেরই লজ্জা করে বাবার এই সব নিম্ফল তর্জন-গর্জনের কথা শুনে। ওর পোশাক-আশােকও তেমনি। আগেকার সব সমৃদ্ধি কোথায় হারিয়ে গেছে। রাত্রিরও চাকরী নেই, বাবার পেন্সনের টাকায় এই সংসারের চাকাটা কোনমতে চলেছে, তাতে ঠাট-বাট বজায় রেখে চলে না। যেন ঠ্যাসানির চোটে দেওয়ালে এসে পিঠ ঠেকেছে। চারিদিকে পরাজয়ের চিহ্ন ফুটে ওঠে। অসিতবাবুর খেয়াল হয়। বলেন তিনি। --অমৃতের জন্য একটু চায়ের ব্যবস্থা কর। আবার গল্পের খেই ধরেন তিনি। তখনকার দিনগুলোই ছিল ভালো। আমরাও আয়রন হ্যান্ডে শাসন করেছি। আওয়াব ওয়ার্ড ওয়াজ ল’। আজ তো শুনি কর্তাদের হুকুমই সব। দরকার হলে হাকিমকেই বদলি করে দেওয়া হবে। তাই দেশটা জাহান্নামে যাচ্ছে। এ্যাণ্ড দ্যাট গান্ধীজী-ওই একটিমাত্র মানুষই সারা দেশকে ক্ষেপিয়ে দিল। অমৃত এতক্ষণ ওই কথাগুলো শুনছিল। সেকালের দণ্ডমুণ্ডের কর্তার মুখে ওই কথা শুনে অমৃত বলে। —তাহলে কি আমরা স্বাধীন হবে না কোনদিন ? চিরকাল পরাধীন থাকাই ভালো छेित ? আগুনে ঘি পড়েছে। দপ করে জ্বলে ওঠে। বলেন অসিতবাবু। --হােয়াট! এর নাম স্বাধীনতা ? দেশের কিছু মানুষ। শুধু চুরি করবে। আর কাজ 8br