পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৫০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


--তু আমরা সবাহ যেন হারিয়ে গেছি। এমনি অন্ধকারে। কোন পথ নেই। অমৃত বলে। --আমার বাবা কিন্তু এটা মানতে চান না। আজীবন প্রায় জেলে কেটেছে অগ্নিমস্ত্রের উপাসক হয়ে। আজও বলেন--দিন বদলাবেই। অন্ধকার কখনও চিরন্তন নয়, হতে পারে না। আমরা মিথ্যে স্বপ্ন দেখি নি। একদিন তা সত্যি হবেই। রাত্ৰি শুনছে কথাগুলো । এই অন্ধকার তার সবকিছু স্বপ্ন আশাকে কি নিবিড়তায় আচ্ছন্ন করে রেখেছে। তবু মনে হয় যদি একটা ভালো চাকরী মেলে, রাতরাতি সব বদলে যাবে। কিন্তু কবে ୯୭ ଔପନ୍ୟ ନୀ | রাত্রি বলে-কে জানে! তবে আমার বাবাকে দেখে মনে হয়। অন্ধকারেই হারিয়ে গেছেন। তিনি। কারণ কি জানেন ? ওঁরা ইংরেজের স্তাবক হয়ে ওই সংগ্ৰামীদের স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিলেন। আর আপনার বাবার কালের যুবশক্তি সেদিন আগ্রাসী ইংরেজকে ধবংস করতে চেয়েছিল। তারা সংগ্রাম করেছিলেন সত্যের জন্য। তাই আজও র্তারা আশা করেন-স্বপ্ন নিয়ে বাঁচতে চান। কোনটা সত্যি আমরা তা জানি না। অমৃত রাত্রিকে দেখছে। ফর্স পািনপাতার মত মুখের চিকণ আদল। নাকটা টিকলো। দু’ চোখের চাহনিতে বেদনা ছাপিয়ে একটি সজল কমনীয়তা এখনও রয়ে গেছে। ওদের কোনও বড় অফিসারের ঘরণী হয়ে পালিশ প্রসাধনে ওই রূপকে উজ্বলতর করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার যোগ্যতা ছিল। কিন্তু দিনবদলের পালায় রাত্ৰিকেও আজ এমপ্লয়মেণ্ট এক্সচেঞ্জের কার্ড করাতে হয়। লাইন ছেড়ে এগিয়ে যাবার অপরাধে অনেক অতি সাধারণ মেয়ের বাক্যবাণও শুনতে হয়। হয়তো একটা স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব রয়ে গেছে রাত্রির, যার জন্য আজ সে নিজেকে বিকিয়ে দিতে পারে নি। তাই নিজের পায়ে দাঁড়াবার জন্য সংগ্ৰাম করতে হচ্ছে। বাইরে রাত নেমেছে। অমৃতের পাড়ার পথ-ঘােট ভালো নয়। অমৃত বলে—আজি আসি। রাত্রি ওর দিকে চাইল। ওর শাস্ত নরম কমনীয় মুখে হাসির একটু দীপ্তি ঝকঝকিয়ে ওঠে। অমৃতকে দরজা অবধি এগিয়ে দিতে এসে বলে। —আবার আসবেন কিন্তু। অমৃত ওর কণ্ঠস্বরে একটু অবাক হয়। দু'এক জায়গায় 金文