পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৫৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শুধু একটি মানুষকেই দেখেছে সাবিত্রী বাড়িতে যে তাকে বোঝাবার চেষ্টা করেছে। সে তার দাদা অমৃত। কিন্তু সেও অসহায়। মুখ বুজে। শুধু পথ চলেছে। মাঝে মাঝে ভেঙে পড়ে। সাবিত্রীও দেখেছে তাকে। এমনি করে সবাই এক মৌন মিছিলের সামিল হয়ে আতলাস্ত অন্ধকারের দিকে এগিয়ে চলেছে। হঠাৎ আজ সাবিত্রী। তবু কোথায় একটা আলোর নিশানা দেখেছে। তার অন্ধকার মনে সেই আলোর ছোঁয়া একটু আশা আর কি অজানা আশ্বাসের সুর এনেছে। আজ স্কুলে কাজলদা তাকে দেখে নি। এড়িয়ে গেছে তাকে সবিত্রী ইচ্ছে করেই। কি ভাবে তাকে কাজলদা দেখবে এটা সে জানে না। তবে মনে হয় কাজলদা তাকে ভোলে নি আজও । অনেক কথাই মনে পড়ে। এই অন্ধকার বাড়িটার সেই দিনগুলো আজও নিশ্চয় ভোলে নি কাজলদা। একটি মেয়ের চোখে সেদিন সে কি স্বপ্ন এনেছিল। তার সদ্য জেগে ওঠা কুমারী মন একটি ফুলের কুঁড়ির মত আলোর জগতে উত্তরণের স্বপ্ন দেখেছিল রূপ গন্ধ বর্ণ নিয়ে— সেদিন তাকে ঘিরে ছিল একটি তরুণ, সে ঐ কাজল।। আজকের নামকরা শিল্পী কাজল মুখাজী। সাবিত্রী এসে ঘরে ঢুকলো । সাবিত্রীর মনে হারানো সুরাটা গুনগুনিয়ে ওঠে কি সজীবতা নিয়ে। মনে হয় আগেকার সেই দিনগুলো ফিরে এসেছে। ছোট্ট বাড়িটায় সেবার বৃষ্টি নেমেছে—আকাশ ছেয়ে এসেছে কলো মেঘ, অনেক দিন পর তাপসন্তপ্ত মাটিতে নেমেছে বৃষ্টির অঝোর ধারা। সাবিত্রী তখন কৈশোর ছাড়িয়ে যৌবনে পা দিয়েছে। চঞ্চল মেয়েটি চুল এলিয়ে দিয়ে ভিজছে সেই বৃষ্টিতে। কারা দাপাদাপি করছে উঠোনময়। হঠাৎ দেখেছিল সেদিন সাবিত্রী কাজলকে-সেও নেমেছে টিনের ঘর থেকে মুক্ত আকাশের নীচে ওই উঠোনে বৃষ্টির মধ্যে। বিমুগ্ধ দৃষ্টিতে সাবিত্রীর ভিজে দেহের দিকে চেয়ে আছে কাজল। সেদিনের সেই তরুণের চোখে ওর শুচিস্নাত নিটােল দেহটাকে মনে হয়েছিল বৃষ্টিভেজা যুঁই ফুলের পাপড়ি। তাতে ফুটে উঠেছে চিকণ সজীবতা-বলিষ্ঠ রেখাগুলো ভিজে শাড়ির আবরণ GG