পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৫৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সেই দিনগুলো কোথায় হারিয়ে গেছে। তবু মনের অতলে একটা সুরের আভাস জাগে । সে সুর কাজলৈও ভোলে নি বোধহয় । সুধাময়ী রান্নাঘরে একটা ছোট গামলায় ময়দা মাখছিল। রাতের খাবার বলতে রুটি আর কিছু তবকারী। ডালেব দামও বেড়ে গেছে, তাই ওটা তাদের কাছে এখন বিলাসে পরিণত হয়েছে। ওঘরের ভাড়াটে লতিকা বৌদি সন্ধ্যার মুখে স্নান সেরে মুখে একটু পাউডারের প্রলেপ লাগিয়ে একটা ফর্সা শাড়ি পরে বেড়াতে বের হয়। এই বন্ধ বাড়িটার দমবন্ধ করা পরিবেশে লতিকা যেন হাঁপিয়ে ওঠে। অবশ্য ওপাশের নিতাই-এর মা বলে-চললেন ঢলানি এইবার। বুঝলে আমুর মা, এদিকে কতো সতীপনা, পার্কের দিকে গিয়ে ওর কােণ্ডটা দ্যাখে নি তো ? কোন সুধাময়ীর এসব আলোচনা ভালো লাগে না। জানে তার সমর্থন পেলে নিতাইএর মা আরও রামায়ণ জুড়বে। বুড়ি লতিকার উপর হাড়ে চটা। তাই বলে।--ছিঃ ছিঃ মাগো ! কি ঘেন্না । ছোড়া তো এখানে আসে মাঝে মাঝে { সুধাময়ী বলে-ওসব কথায় কি দরকার খুড়িমা ? } } ---س--. নিতাই এর মা অবাক হয় ওর নিস্পৃহতায়। সুধাময়ী রান্নাঘরে গিয়ে ময়দা মাখতে বসেছে। রাসভঙ্গ হতে নিতাই-এর মা বলে আপন মনেই। সোমাও মেয়েও তো ওই। তাই এতো ভাব। এবাড়ির ওই মানুষগুলোকে সুধাময়ী দেখে আসছে বেশ কয়েক বছর ধরে। ৩খন দিন ভালো ছিল সুধাময়ীর, এবাড়ি থেকে তবু চলে যেতে পারে নি। আজ ওদের ব্যবহার, কথাবার্তা ভালো লাগে না। সাবিত্রীর সম্বন্ধে ওদের মন্তব্যগুলো তার মনে জুলা ধরায় । সুধাময়ী এসব ইঙ্গিতপূৰ্ণ কথাগুলো শুনেছে। এর আগেও, জানে ওদের কথার প্রতিবাদ করলে তাতে বিপদ আর অশান্তি বাড়বে তাই চুপ করে এড়িয়ে থাকে। বার বার মনে হয়, এই বহু মানুষের ভিড় থেকে সরে থাকবে, ছোট্ট একটু বাড়ি হবে তাদের। সবুজেব চিহ্ন থাকবে আশেপাশে। ó፩ ዔ