পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৬১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মুখ বুজে থােক। সংসার যে চালাচ্ছে তার দিকটাও দেখবি তো? সুধাময়ী দৃঢ়স্বরে বলে স্বামীকে। —তুমি বাপু কালই পটলকে গিয়ে বলো, তুমি রাজী আছে। বসস্তবাবু কি একটা বঁধনে জড়িয়ে পড়ছেন, ভয়ও হয়। তাই স্ত্রীকে অনুনয় করছেন কাতর স্বরে, যেন নিষ্কৃতি চান। তিনি। --কি বলছে এসব অমুর মা ? অভাবের জন্য শেষকালে ছাত্রের কাছে গোলামী করবো ? ---নিয়তো কি ভিক্ষে করলে মান সম্মান থাকবে ? বলো তাহলে কাল থেকে আমিই শিয়ালদহ স্টেশনে গিয়ে হাত পেতে দাঁড়াবো! -- বড় বেী! বসস্তবাবু চমকে ওঠেন। ওর গালে যেন অতর্কিত একটা আঘাত এসে পড়েছে। অস্ফুট কণ্ঠে বলেন তিনি। —কি বলছে আমুর মা ? সুধাময়ীর দু'চোখে জল নামে কি বেদনায় আর জ্বালায়। বাসস্তবাবুর সব আদর্শ কোথায় উবে যাচ্ছে, তিনিও আজীবন সংগম করে হেরে গেছেন। বলেন। --তোমার কথাই থাকবে অমুর মা ; সব যখন গেছে, তখন এই দুর্বলতাটুকুই বা থাকে কেন ? আদর্শও আজ অবাস্তর। ওখানেই গোলামী করবো। তুমি চুপ করো। বসন্তবাবুর কণ্ঠস্বর বদলে গেছে, তিনি অন্য মানুষে পরিণত হয়েছেন। সাবিত্রী বাবার দিকে চেয়ে থাকে। ও যেন প্ৰাণহীন একটি শব। আবছা অন্ধকারে অমৃতও বাড়ি ঢুকেছিল। বাবা-মায়ের কথাগুলো সে শুনেছে। বাবার মনের ওই সংঘাতটাকে দেখেছে অমৃত। দেখেছে তার বেদনােটা। কিন্তু সব মূল্যবোধ আজ বদলে গেছে। সব আদর্শের অপমৃত্যু ঘটেছে। তাই বসন্তবাবুও হেরে গেছেন। নিঃশেষ আত্মসমৰ্পণ করেছেন সেই অভাবের মধ্যেও বেঁচে থাকার চেষ্টাটুকুর জন্য। অমৃত চুপ করে দেখছে--তার কাছে এটা বোধহয় যেন নিষ্ঠুর পরাজয়। অমৃতও শত চেষ্টা করে ওই বৃদ্ধকে সম্মান নিয়ে শেষ জীবনটাকে কাটাবার পক্ষে কোন সাহায্য করতে পারে নি। ওরা সবাই হেরে গেছে। অমৃতের প্রচেষ্টা এখানে Va\3)