পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৬৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অশোক জানায় । -অবিশ্যি এখন মেয়েদের অভাব আর নেই। বুঝলি ওসব সতীত্ব, শালীনতাঅমৃত অশোকের দিকে চেয়ে আছে। অশোক বলে চলেছে। --সমাজের এই কাঠামোটা যত তাড়াতাড়ি ভেঙ্গে পড়ে ততই ভালো! ভাঙ্গুক, আশা স্বপ্ন ভালোবাসা সব মোহ ছুটে যাক। তবেই মানুষ বিদ্রোহী হয়ে উঠবে। অমৃতের মনে হয় ঘুরতে ঘুরতে বুকভরা শূন্যতা আর হতাশা নিয়ে সেও জলেপুড়ে খাক হয়ে যাবে। রাত নামছে। বাবার ঘরে আলো নিভে গেছে। ক্লান্ত বৃদ্ধ মানুষটা বােধহয় ঘুমিয়ে পড়েছে। অমৃত ভাবছে ওর কথা। আজীবন বসন্তবাবু যেন উল্কার মত জ্বালা নিয়ে ফিরেছেন। আজ তার উত্তরপুরুষরাও সেই দুঃসহ জ্বালা থেকে মুক্তি পায় নি। এতদিনে তবে পরিবর্তন কি হয়েছে সমাজ-ব্যবস্থায় সেটা মাঝে মাঝে ভাবে অমৃত। সাবিত্রীর মনের অতলের চাপা পড়া সুরাটা কেমন গুনগুনিয়ে ওঠে। ক্লাশ আরম্ভ হবার আগে আসে, বাড়িতেও ভালো লাগে না। তবু গানের স্কুলে এসে দারোয়ানদের নিয়ে ঘর সাফ করে হারমোনিয়াম, তানপুরা, তবলা বের করিয়ে আসর সাজিয়ে বসে। দারোয়ান বলে । ---এতো সকাল সকাল এলে সাবিত্ৰী দিদি ? সাবিত্রীর মনে অকারণে কি লজ্জার আবেশ জাগে। ওই বুড়ো লোকটা বােধহয় জেনেছে তার মনের গহনের দুর্বলতার কারণটা। তাই ওই প্রসঙ্গটা চাপা দেবার জন্য বলে সাবিত্রী-এমনিই। সাবিত্রী কাজলবাবুর ক্লাশ আছে আজ তা জানে। মনের গভীরে তবু একটা খুশীর সুর ওঠে। কেন জানে না সাবিত্রী। তবু তাকে অস্বীকার করতে পারে না। তাই সাবিত্রী আজ কিছুটা সেজেণ্ডজেই এসেছে। সম্বল মাত্র একখানা শাড়ি। সেইটা পরে মুখে ঘাড়ে গলায় একটু পাউডারের প্রলেপ দিয়ে ফিটফট হয়েছে। সাবিত্রী বলে—এলাম একটু কাজ ছিল। যন্ত্ৰ-পাতিগুলো সাজিয়ে রাখতে হবে। | الخميسيس. &ኃዒ