পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৬৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দারোয়ানরা নীচে নেমে গেছে। একই রয়েছে সাবিত্রী। ওপাশে হরমোনিয়ামটা rNAN কি ভেবে সাবিত্রী হারমোনিয়ামটা টেনে নিয়ে আপন মনে সুর তুলতে থাকে। নিজেও একদিন গাইতো। পুরোনো বাড়িটার এদো ঘরে বসে একটি মেয়ে এই সুরের আলাপ করেছিল সেদিন কাজলেরও সুর উঠতো সেই বাড়ির প্রাস্তসীমার ঘরখানা থেকে। সাবিত্রী উৎকৰ্ণ হয়ে সেই সুর শুনতো। সাবিত্রী গানের অনুপ্রেরণা পেয়েছিল তার কাছ থেকেই। ওই সুরের ছোয়া আজও তার মনকে ভরিয়ে রেখেছে। আজকের সুরে সেই স্মৃতিই জেগে ওঠে। হঠাৎ সুলেখাদির ডাকে খেয়াল হয়। কতক্ষণ গান গাইছিল জানে না সাবিত্রী। সুলেখাদি এসে পড়েছে। দরজার সামনে দাঁড়িয়েও বোধহয় সাবিত্রীর গানও শুনছিল। ওকে দেখতে পেয়ে সাবিত্রী থেমে গেছে, লজ্জায় ওর মুখ রাঙ্গা হয়ে যায়। কি একটা গৰ্হিত কাজ সে করে বসেছে। সুলেখা জানতো না যে সাবিত্রী গান গাইতে পারে। এখানেও ছাত্রী হয়ে আসে নি। এসেছিল সামান্য চাকরী নিয়ে। মাসকাবারি কাটা টাকার জন্য। সুলেখা দেখেছে মেয়েটিকে। ভালো লাগে তার সাবিত্রীকে। শাস্ত ভদ্র। আজ ওর গান শুনে আরও বিস্মিত হয়েছে। সুলেখা বলে--"বাঃ, বেশ চমৎকার গাইছিলে তুমি। আগে গান গাইতে ? অস্বীকার করার উপায় নেই। হাতে-নাতে ধরা পড়ে গেছে সে। সাবিত্রী মাথা নাড়ে-এক আধটু গাইতাম। সুলেখা বলে-গান শিখলে সুন্দর গাইতে পারবে। কারোও কাছে শিখেছিলে নাকি ? সাবিত্রী চমকে ওঠে। তার আগেকার দিনগুলোর কথা মনে পড়ে। তখন কাজলবাবু সবে দু-এক জায়গায় গাইছে, রেকর্ড বের হয়েছে একখানা। সেই উজ্জ্বল মুহূর্তগুলোর কথা ভোলে নি সাবিত্রী। তার সুরের স্মৃতিতে কাজল মিশিয়ে আছে। কাজলদাই বলতে রেওয়াজ করো। আমিই দেখিয়ে দোব। তবু একটা সাধনা নিয়ে থাকলে পথ পাবেই। সাবিত্রীও গান গাইবার চেষ্টা করতো। কাজলদাই তাকে সেদিন শিখিয়েছিল। সাবিত্রীর সেই আলো-ঝলমল মুহূর্তগুলোর কথা মনে পড়ে। কিন্তু আজ সেটা やがbr